নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তিনি বিশেষভাবে সক্ষম। তবু অদম্য জেদকে হাতিয়ার করেই আন্তর্জাতিক স্তর থেকে ভারতের জন্য সোনা জিতলেন রানাঘাটের আতর আলি। তিনি নেপালে সদ্য শেষ হওয়া ইন্দো-নেপাল যুব স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন। তাতেই দু’টি ইভেন্টে জোড়া সোনার পদক জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই খেলোয়াড়।
রানাঘাট শহর লাগোয়া আনুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকার শ্রীনাথপুর কারিগরপাড়ার বাসিন্দা আতর। অল্প বয়স থেকেই খেলাধুলোর প্রতি তাঁর ঝোঁক। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরলেও নিজের লক্ষ্য থেক বিচ্যুত হননি কখনও। অভাবের পাশাপাশি আতরকে লড়তে হয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গেও। পায়ের সমস্যার কারণে তিনি ৫৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী। তবুও সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সেই শৈশবে দেখা আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের জন্য পদক জয়ের স্বপ্ন এতদিনে সত্যি হল। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নেপালে ভারত সরকারের নীতি আয়োগ স্বীকৃত ইন্দো-নেপাল যুব স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫ আয়োজন করা হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়া সহ পৃথিবীর মোট ২২টি দেশ সেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। গত ২৩ ও ২৪ জুন ২০০ এবং ৪০০ মিটার দৌড়ের জোড়া ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন রানাঘাটের আতর। আর সেই দু’টিতেই তিনি সফল হন। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি বাকি প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে জোড়া স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছেন।প্রতিযোগিতা থেকে ফিরে রানাঘাটের বাড়িতে দাঁড়িয়ে আতর আলি বলেন, দেশের জন্য পদক জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি ভবিষ্যতে আরও সাফল্য পেতে চাই। অভাবের সংসার। লোকের কাছ থেকে টাকা ধার করে আমাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আমার আস্থা আছে। আশা করছি, ওঁরা আমার পাশে দাঁড়াবেন। একটা চাকরি খুব দরকার। তা না হলে যা ধারদেনা হয়েছে শোধ করা অসম্ভব। আগামী দিনে হয়তো আর অন্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারব না। ভাইয়ের সাফল্যে আপ্লুত দিদি রহিমা বিবি। তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে আয়ার কাজ করেন। তাঁর কথায়, ভাইয়ের এই সাফল্যে কতটা আনন্দ হচ্ছে, তা কী করে ব্যাখ্যা করব জানি না। তবে প্রার্থনা থাকবে, ভবিষ্যতে ও যেন আরও সাফল্য পায়। ছোটবেলা থেকে যে পরিশ্রম করেছে, এটা হয়তো তারই ফসল।