Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ব্লাড সেপারেশন ইউনিট’ পেতে চলেছে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল

‘ব্লাড সেপারেশন ইউনিট’ পেতে চলেছে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: জেলা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আরও একধাপ স্বাবলম্বী হচ্ছে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল। এবার নিজস্ব ‘ব্লাড সেপারেশন ইউনিট’ পেতে চলেছে তারা। বিশেষ পরিকাঠামোর মাধ্যমে রক্তের বিভিন্ন উপাদান হাসপাতালেই আলাদা করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যদপ্তর রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। 

Advertisement

একসময় রোগীকে সমগ্র উপাদানযুক্ত রক্ত দেওয়া হতো। যদিও পরবর্তীতে চিকিৎসা বিজ্ঞান উন্নত হওয়ায় তৈরি হয় ‘ব্লাড সেপারেশন ইউনিট’। যার মাধ্যমে মানব রক্তে উপস্থিত আরবিসি, প্লাজমা এবং প্লেটলেট আলাদা করা সম্ভব। অর্থাৎ, রোগীর রক্তে যেটুকু প্রয়োজন, তাঁকে সেইটুকু উপাদানই দেওয়া সম্ভব। অতীতে বহুক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, যে রোগীর কেবলমাত্র প্লাজমা প্রয়োজন, তাঁকে আরবিসি এবং প্লেটলেট সহ সমগ্র রক্ত দেওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এতদিন নদীয়ায় মহকুমাস্তরের হাসপাতালগুলি এই রক্তের উপাদান আলাদা করার জন্য নির্ভর করতে হয় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের উপর। সংগৃহীত রক্ত মহকুমা হাসপাতাল থেকে জেলায় পৌঁছে, তার উপাদানগুলি আলাদা করা হয়। তারপর তা পুনরায় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসতে সময় লেগে যেত প্রায় একদিন। এতে সময় এবং ‘ম্যান পাওয়ার’ দুই-ই নষ্ট হয়। তাই নিজস্ব ব্লাড সেপারেশন ইউনিট চেয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে আবেদন করেছিল রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল। 
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তাদের এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়ে গিয়েছে। বাকি কেবল পরিকাঠামো গড়ার জন্য টাকা বরাদ্দ হওয়া।
রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল সূত্রের খবর, পুরাতন পেডিয়াট্রিক বিভাগেই তৈরি হবে এই সেপারেশন ইউনিট। প্রতিবছর হাসপাতালেই এক হাজারের বেশি রক্তের নমুনা সংগ্রহ যাবে। এরপর তার উপাদানগুলি আলাদা করা হবে। মেশিনের বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তের ‘রেড ব্লাড সেল’ বা আরবিসি চলে আসবে সবচেয়ে নীচে। আলাদা হয়ে প্লেটলেট চলে আসবে মাঝে। আর সবার উপরে থাকবে প্লাজমা। ইউনিট তৈরির পাশাপাশি সংরক্ষণ পরিকাঠামোও গড়া হবে। কারণ, আরবিসি, প্লেটলেট এবং প্লাজমা ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন, আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত সেই পরিকাঠামো ছিল না। ফলে রক্ত সংগ্রহ করে জেলায় পাঠাতে হয়। তা আলাদা হয়ে আসতে সময় লাগে একদিন। আমরা নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি করে ফেললে রাতারাতি সেই রক্ত আলাদা করে ফেলতে পারব। রোগী বিশেষে প্রয়োজনীয় রক্তের উপাদান হাসপাতালেই দিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে রানাঘাট মহকুমার বিস্তীর্ণ অংশের রোগীরা উপকৃত হবেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ