Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রানাঘাট: ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তায় দোকানপাট, পুরসভার উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

বেআইনি দখলদারির চোটে আগেই অস্তিত্ব হারিয়েছে রানাঘাট শহরের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক রাস্তার ফুটপাত। এবার দখলদারদের অস্থায়ী দোকানগুলি  ফুটপাত ডিঙিয়ে উঠে আসছে মূল রাস্তায়।

রানাঘাট: ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তায় দোকানপাট, পুরসভার উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বেআইনি দখলদারির চোটে আগেই অস্তিত্ব হারিয়েছে রানাঘাট শহরের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক রাস্তার ফুটপাত। এবার দখলদারদের অস্থায়ী দোকানগুলি  ফুটপাত ডিঙিয়ে উঠে আসছে মূল রাস্তায়। কিন্তু সমস্যাটি নিয়ে কার্যত চোখ বন্ধ করে রয়েছে রানাঘাট পুরসভা। অভিযোগ শহরবাসীর। তাঁদের প্রশ্ন, ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতেই কি এই নিষ্ক্রিয়তা।    নদীয়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা শহর রানাঘাট। মাত্র ২০টি ওয়ার্ড নিয়ে আয়তনে ছোট হলেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল এই শহরটি। প্রাচীন নগর পরিকাঠামোর কারণে শহরের একাধিক রাস্তা অপরিসর। প্রায় রাস্তার গা ঘেঁসে উঠে গিয়েছে ঘরবাড়ি। ফলে নতুন করে রাস্তা চওড়া করার অবকাশ নেই অধিকাংশ জায়গাতেই। প্রতিদিন যানবাহন বৃদ্ধি এবং বেআইনি টোটোর উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সেই রাস্তাগুলির হাঁসফাঁস দশা। রানাঘাট স্টেশন সংলগ্ন জিএনপিসি রোড, সুভাষ অ্যাভেনিউ, স্বামী বিবেকানন্দ সরণির মতো রাস্তাগুলি ক্রমশ হয়ে উঠছে দুর্ঘটনাপ্রবণ। পুর নিষ্ক্রিয়তার কারণে সেই কফিনে শেষ পেরেক মারার কাজ করছে বেআইনি দখলদাররা। মুখ্যমন্ত্রী কড়া নির্দেশিকা দিয়ে শহরের ফুটপাত খালি করার কথা বললেও রানাঘাট পুরসভা তা মানেনি। বরং আগের চেয়ে বেড়েছে দখলদারের সংখ্যা। ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে দোকানপাট। কোথাও কোথাও দু’ দিকে একফুট করে ছোট হয়ে গিয়েছে রাস্তা। করুণ দশা স্টেশন সংযোগকারী জিএনপিসি রোড এবং সুভাষ অ্যাভেনিউয়ের। পথচারী সোমনাথ বিশ্বাস বলেন, পুরসভা যাঁরা চালান তাদের হয়তো স্বার্থ রয়েছে অথবা ভোটকেন্দ্রিক ভাবনাচিন্তা কাজ করছে। সেই কারণেই ফুটপাত খালি করা হয়নি। এখন আবার রাস্তা দখল করতে দেওয়া হচ্ছে। অভিমুন্য দাস বলেন, খোদ পুরসভার সামনেই রাস্তা দখল হয়ে গিয়েছে। কেবল মানুষের রুটিরুজির প্রশ্ন তুলে রাস্তা দখল তো মেনে নেওয়া উচিত নয়। এই দখলদারিকে প্রশ্রয় দিলে ভবিষ্যতে তা সরানো অসম্ভব। সরাতে গেলে দখলদাররা বিকল্প জায়গার দাবি করবে। এটাই এখন নিয়ম হয়ে গিয়েছে, প্রথমে সরকারি জায়গা দখল করে তারপর পুনর্বাসনের নামে পাকা জায়গা পাওয়া। 

Advertisement

রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রত্যেকটা মানুষ কিছু না কিছু করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকেরই দোকান কেনার অথবা ভাড়া নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই। তবে এতটা দখল অবশ্যই মেনে নেওয়া হবে না। টানা উৎসবের মরশুম চলছিল বলে আমরা পদক্ষেপ করিনি। এখন সব মিটে গিয়েছে। এবার রাস্তাগুলির কিছুটা হাল ফেরানোর চেষ্টা করা হবে। আমরা সমস্ত কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ