নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট: অচেনা ছেলেটিকে ইতিউতি ঘুরতে দেখে এলাকার লোকের চোর বলে সন্দেহ হয়েছিল। তারা তাকে ধরে পিটুনি দিতেও শুরু করে। তবে সৌভাগ্যবশত মানসিকভাবে অসুস্থ ওই যুবকের প্রাণ বাঁচিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিস। অসুস্থ যুবকটি কোনওমতে নিজের নাম বলতে পারলেও, জানাতে পারেনি ঠিকানা। অবশেষে পুলিস ও হ্যাম রেডিওর উদ্যোগে দীর্ঘ আট বছর পরে ‘মৃত’ ছেলে ফিরল মায়ের কোলে।
গত শুক্রবার রানাঘাট শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের থানাপাড়ায় বছর বাইশের এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবককে চোর সন্দেহে গনপিটুনি দেওয়া চলছিল। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রানাঘাট থানার পুলিস। গণপিটুনির হাত থেকে যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে আসে থানায়। পুলিসের কাছে ওই যুবক নিজের নাম রোশন কুমার বললেও, বাড়ির ঠিকানা কিছুতেই মনে করতে পারছিল না। তবে তার মুখে বারবার আসছিল বিহার ও ওড়িশার নাম। বিষয়টি জানানো হয় হ্যাম রেডিওকে। তাদের তরফেই রোশনের ছবি ও বিস্তারিত বর্ণনা পাঠানো হয় বিহার ও ওড়িশার বিভিন্ন অঞ্চলে। অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় হদিশ মেলে রোশনের পরিবারের। জানা যায়, রোশন কুমার বিহারের সমস্তিপুর জেলার মির্জাপুরের কল্যাণপুর চকের বাসিন্দা। তাঁর মা অনিতা দেবী জানান, আট বছর আগে কাজের খোঁজে ওড়িশায় যাওয়ার পথে ট্রেনে উঠে নিখোঁজ হয়ে যায় রোশন। বহু খোঁজাখুঁজির করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। অনিতা দেবী এক সময়ে ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো আর বেঁচে নেই তাঁর ছেলে। অনিতা দেবী বলেন, ভেবেছিলাম রোশন আর নেই। আজ তাকে জীবিত ফিরে পেয়ে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোশনের দাদা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত, বাবা বহু বছর আগেই মারা গিয়েছেন। রোশনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশংসিত হয়েছে রানাঘাট থানার পুলিস ও হ্যাম রেডিওর সদস্যরা। পুলিসের এক কর্তা বলেন, মানসিক অসুস্থ এক যুবক আট বছর পর বাড়ি ফিরছে— এর চেয়ে বড় আনন্দ কিছু হতে পারে না। অন্যদিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানান, পুলিসের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পরই আমরা খোঁজ শুরু করি। মাত্র একদিনেই আমরা রোশনের ঠিকানা জোগাড় করতে পেরেছি। আট বছর বাদে হারানো ছেলে ফিরছে বাড়িতে। -নিজস্ব চিত্র