সংবাদদাতা, রানাঘাট: ক্যানসার প্রতিরোধ এবং নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল রানাঘাট মহাকুমা হাসপাতাল। এই মহকুমায় এই প্রথম মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জরায়ুর ক্যানসার পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা চালু হলো। সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে আগামী ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি নাবালিকাদের ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার পরীক্ষার সুবিধা মিলছে।
রানাঘাট মহাকুমা হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মহিলারা ক্যানসারে আক্রান্ত কি না কিংবা ভবিষ্যতে তার ক্যানসার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না তা স্পষ্টভাবে জানা যাবে। পরীক্ষার পর মাত্র ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যে রোগীরা হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে তাদের মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। ক্যানসার যদি একদম শুরুর ধাপে ধরা পড়ে যায় তবে দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। পরীক্ষা চলাকালীন যদি কারো শরীরে ক্যানসারের জীবাণু ধরা পড়ে তবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে।
সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত সুবিধাজনক পরিষেবা। খোলা বাজারে বা বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে এই ধরনের পরীক্ষা করাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচা করতে হয়। একটি দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে যা ব্যয়বহুল। ফলে খরচের চিন্তায় অনেকেই পরীক্ষা করানো থেকে পিছিয়ে আসতেন। হাসপাতালে এই সুযোগ চালু হওয়ায় সেই আর্থিক বোঝা অনেকটাই কমবে সাধারণ মানুষের। এই স্বাস্থ্য পরিষেবায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভালোই সাড়া মিলেছে।
পরীক্ষা করাতে এসে একাধিক মহিলারাজানান, এই পরীক্ষাটি বাইরে থেকে করাতে গেলে ২০০০ টাকা আবার কোথাও আড়াই হাজার টাকা লাগত। সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ব্যবস্থা হওয়ায় আমাদের মত সাধারন মানুষের অনেক উপকার হবে।
এইবিষয়ে রানাঘাট মহাকুমা হাসপাতালের এমডি প্যাথলজি মৌমিতা চট্টোপাধ্যায় জানান, নিয়মিত (HPV) টেস্ট এবং (Pap Smear) পরীক্ষার মাধ্যমেও এই ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ২১ থেকে ২৯ এর মধ্যে থাকা বয়স্ক নারীদের ২১ বছর বয়স থেকেই সার্ভাইক্যাল সাইটোলজি পরীক্ষা শুরু করা উচিত। প্রতি তিন বছর অন্তর এই পরীক্ষা করানো দরকার। এছাড়াও ৩০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের নারীদের প্রতি পাঁচ বছর পর পর(HRHPV) পরীক্ষা করানো সবচেয়ে কার্যকর”।