নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার ঘটনার এক বছর সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই দোষী সাব্যস্ত হল স্বামী। বুধবার রানাঘাট মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক আদালত নির্মল দত্ত নামে ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে। বৃহস্পতিবার ছিল সাজা ঘোষণা। এদিন রানাঘাট আদালত অপরাধীকে খুনের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর, ধানতলা থানা এলাকায় কুপিয়ে খুনের ঘটনাটি ঘটে। কুষাবেড়িয়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নির্মল দত্তর সঙ্গে তার স্ত্রীর বেশ কিছুদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। ঘটনার দিন সেই অশান্তি চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, গৃহবধূ সুচরিতা দত্তকে ধারালো দা(কাটারি) দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে নির্মল। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে নির্মল এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। এরপর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সুচরিতাদেবীর পরিবারের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু, সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এদিকে, এই ঘটনার পরেই গা ঢাকা দেয় নির্মল। পরে মৃতার পরিবারের তরফে ধানতলা থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের হলে তদন্ত শুরু করে পুলিস। বেশ কয়েক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় নির্মলকে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রশংসনীয় কাজ করে রানাঘাট জেলা পুলিসের ধানতলা থানা। রানাঘাট ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে দ্রুত চার্জশিট পেশ করে দেয় তারা। এরপর আদালতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছিল। সমস্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার রায়দান হয়। স্ত্রীকে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয় নির্মল। বৃহস্পতিবার বিচারক অপরাধীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারপক্ষের আইনজীবী অপূর্বকুমার ভদ্র বলেন, জানুয়ারি মাসে এই মামলার চার্জ ফ্রেম হয়। ছ’মাসের মধ্যে ২১জন সাক্ষীর বয়ান নথিবদ্ধ হয়েছে। আমরা আদালতের কাছে সর্বোচ্চ সাজার আবেদন করেছিলাম। সমস্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক নির্মল দত্তকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। রায়দানের পর রানাঘাট জেলা পুলিসের সুপার আশিস মৌর্য বলেন, তদন্তকারী অফিসার সহ গোটা ধানতলা থানার টিম খুব ভালো কাজ করেছে। তাই আমরা দ্রুত অপরাধীকে ওই নৃশংস খুনের উপযুক্ত সাজা পাইয়ে দিতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিস-প্রশাসন যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে এবং কঠোর অবস্থানেই অনড় থাকবে।