নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেলপথে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী বদল আসতে চলেছে। ডবল লাইন পেতে চলেছে রানাঘাট-বনগাঁ রেল শাখা। ৩৯৬ কোটি টাকায় বছর খানেকের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে এই ডবল লাইন। রবিবারই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এই এলাকার জন্য এই নয়া প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদন দিয়েছে রেল বোর্ড। পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের অধীনে রয়েছে এই রানাঘাট-বনগাঁ রেলপথ। বাংলদেশ লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই লাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই পথে যাত্রী ও পণ্যপাহী ট্রেন চলাচল করে। তবে একটিমাত্র লাইন হওয়ায় ট্রেনের গতি থাকে অত্যন্ত মন্থর। আপ-ডাউনে পৃথক লাইন হয়ে গেলে দুই জেলার আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন হবে। ৩২ কিলোমিটারের বেশি এই ডবল লাইনের আওতায় থাকবে ৯টি রেল স্টেশন। পাশাপাশি ২টি লিমিটেড হাইট সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। রানাঘাট জংশন শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর-লালগোলা মূল লাইনে অবস্থিত। অন্যদিকে, বনগাঁ জংশন শিয়ালদহ-দমদম-বনগাঁ-পেট্রাপোল (বাংলাদেশ সীমান্তের নিকটে) লাইনে অবস্থিত। বর্তমানে এই দুই জেলার প্রান্তিক অঞ্চলে থাকা স্টেশনগুলি একই লাইনে যুক্ত। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যাত্রীসংখ্যা ও দ্রুত পণ্য পরিবহণের লক্ষ্যে ডবল লাইন বাস্তবের চাহিদা। সম্প্রতি রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ ভায়া বনগাঁ এসি লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে। কিন্তু সিঙ্গল লাইনের গেরোয় অনেক সময়ই ট্রেন লেট করছে। ডবল লাইন হয়ে যাওয়ার পর যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য আগের তুলনায় উন্নত হবে বলেই দাবি রেল কর্তাদের। রেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডবল লাইন চালু হলে বাড়তি ০.৮৮ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি প্রতিদিন আপ-ডাউনে অতিরিক্ত ১০ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর সুযোগ হবে। ফলস্বরূপ বছরে বাড়তি ৯ কোটি টাকা আয় হবে রেলের।



