Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

জেরায় মুখ খুলছে রানা, কাঁপছে পাকিস্তান

জেরায় মুখ খুলছে রানা, কাঁপছে পাকিস্তান
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ৫২ কিমি দূরে, হাসান আবদাল ক্যাডেট কলেজে দু’জনের প্রথম সাক্ষাৎ। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্ররা পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে পারে এই সামরিক প্রশিক্ষণ কলেজে। সেখান থেকেই শুরু হয় ডেভিড কোলম্যান হেডলি এবং তাহাউর রানার বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব গাঢ় হওয়ার কারণ, দু’জনেরই লক্ষ্য এক—ভারতের সর্বনাশ। সেনা ডাক্তার হিসেবে কিছুদিন পাকিস্তান আর্মিতে কাজ করেছিল রানা। তারপর কানাডায় থিতু হয়। আর হেডলি পাকিস্তানি বাবাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল আমেরিকান মায়ের কাছে। বিদেশের মাটিতে ফের সাক্ষাৎ হয় দু‌ই বন্ধুর। নতুন সম্পর্কের সেতুর নাম ছিল লস্কর-ই-তোইবা। আর সেই যৌথ জার্নির সর্বশেষ ফল ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ভয়াবহ হামলা। রানার ভিসা সার্ভিস সংস্থা থে঩কেই ভারতে আসার বিজনেস ভিসা পেয়েছিল হেডলি। মুম্বইয়ে এসে মাসের পর মাস থেকে সে ছবি ও ভিডিও তোলে সম্ভাব্য হামলার লোকেশনের। তারপর যাবতীয় ভিডিও ও ছবি নিয়ে পৌঁছয় করাচিতে। তার তৈরি নিখুঁত চিত্রনাট্য অনুযায়ী আজমল কাসব এবং আরও ন’জন করাচি বন্দর থেকে ভেসে পড়ে মুম্বইয়ের দিকে। 

Advertisement

এই সব তথ্য এনআইএ’র জানা। আর এবার তাদের সামনে সব প্ল্যানের অন্যতম প্রধান অংশীদার তাহাউর রানা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাকে আদালতে পেশ করে ১৮ দিনের জন্য হেফাজতে নিয়েছে এনআইএ। শুক্রবার সকাল থেকে লাগাতার জেরা। সুতরাং পাকিস্তান প্রবল আতঙ্কে। কারণ আমেরিকা রানাকে শুধু ফেরত পাঠায়নি, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, এফবিআই, সিআইএ তাকে জেরা করে বহু তথ্য পেয়েছে। সে সব ভারতের সঙ্গে ‘শেয়ার’ করা হয়েছে অথবা হবে। ফলে প্রমাণিত হতে চলেছে মুম্বই হামলায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা। এনআইএ’র কাছে আছে ২০০৮ সালের কয়েক মাসের এবং মুম্বই হামলা চলাকালীন ইন্টারসেপ্ট করা একঝাঁক ফোনকল। সাড়ে চারশোর বেশি ই-মেল, ভয়েস রেকর্ড। আর আজমল কাসবের স্বীকারোক্তি। সুতরাং প্রমাণের অভাব নেই। তাই রানাকে জেরার একমাত্র লক্ষ্য, তার মুখ থেকে আরও কিছু স্বীকারোক্তি আদায়। যাতে সরাসরি আন্তর্জাতিক মহলে ২৬/১১-র নেপথ্যে পাকিস্তান আর্মির ভূমিকা ফাঁস করে দেওয়া যায়। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআ‌ই যে হাফিজ সইদের লস্করের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে মুম্বই হামলা সংঘটিত করেছে, সেটা নিয়ে সংশয় নেই। কিন্তু হামলা চলাকালীন হাফিজ সইদদের সঙ্গে যে পাকিস্তানের একাধিক সেনা অফিসারও আইপি কলে সরাসরি কাসবদের নির্দেশ দিচ্ছিল, সেটা তাহাউরকে দিয়েই বলাতে চায় এনআইএ। এনআইএ হেডকোয়ার্টারে দরজাহীন অ্যাটাচড বাথরুম সহ এক চিলতে সলিটারি সেলে বিনিদ্র রজনী কাটছে মুম্বই হামলার অন্যতম মূল চক্রীর। ঘুম নেই পাকিস্তানেরও! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ