Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে ছাত্রী খুনের ঘটনা: স্কুল চালু নিয়ে আদিবাসীদের বৈঠকে এলেন না পরিচালন কমিটির সদস্যরা

নাবালিকা আদিবাসী ছাত্রীর টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধারের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে স্কুল। ভয়ে স্কুলের ধারেকাছে ঘেঁষছেন না শিক্ষকরা।

রামপুরহাটে ছাত্রী খুনের ঘটনা:  স্কুল চালু নিয়ে আদিবাসীদের বৈঠকে এলেন না পরিচালন কমিটির সদস্যরা
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকা আদিবাসী ছাত্রীর টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধারের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে স্কুল। ভয়ে স্কুলের ধারেকাছে ঘেঁষছেন না শিক্ষকরা। যদিও মঙ্গলবার স্কুল খোলা সংক্রান্ত বিষয়ে আদিবাসী সমাজের ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন স্কুল পরিচালন কমিটির সদস্যরা। স্বভাবতই স্কুল খোলা নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, এদিন ঘটনার তদন্তকারী অফিসার এসডিপিও গোবিন্দ সিকদার অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো ধারা যুক্ত করার আবেদন জানান এসিজেএম কোর্টে। পাশাপাশি গেট প্যাটার্নেরও আবেদন জানান। এই গেট প্যাটার্ন প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে অভিযুক্তের চেহারা মিলিয়ে দেখা হয়। বিচারক পকসো ধারার আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি এডিজে কোর্টে পাঠিয়ে দেন। সেখানেই চলে গেট প্যাটার্নের আবেদনের শুনানি। 

Advertisement

নাবালিকা ছাত্রীকে নৃশংস খুনের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে রামপুরহাট থানা এলাকা। মৃত ছাত্রীর স্কুল গেটের সামনে রামপুরহাট দুমকা সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখান আদিবাসীরা। তাঁদের দাবি, ওই শিক্ষককে ফাঁসি দিতে হবে। আর ওই শিক্ষক যে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল সেটা প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও পদক্ষেপ করেননি। সেই সঙ্গে প্রথম যেদিন অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তখন স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক তাকে ছাড়িয়ে আনে। এই ক্ষোভের মাঝে ওইদিন স্কুলে প্রবেশ করতে গেলে ব্যাপক মারধর করা হয় প্রধানশিক্ষক সন্দীপ সাহাকে। ভয়ে মাঝ পথ থেকেই ঘুরে বাড়ি চলে যান বাকি শিক্ষকরা। আন্দোলনকারীরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে। ছ’দিন হয়ে গেল এখনও বন্ধ স্কুল। একাদশ শ্রেণির একের পর এক পরীক্ষা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিকে দু’দিন আগেই ছাত্রীর বাড়ি লাগোয়া মাঠে স্মরণসভার হাজির হয়ে আদিবাসী সংগঠনগুলির নেতারা একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন,  স্কুল খোলার ব্যাপারে মঙ্গলবার তারা পরিচালন কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেই সিদ্ধান্ত কমিটির সভাপতিকেও জানিয়ে দেন। এদিন বৈঠক করার জন্য আদিবাসী সমাজ হাজির হলেও অনুপস্থিত থাকল পরিচালন কমিটি। ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের নেতা ঘাসিরাম হেমব্রম বলেন, যে চলে গিয়েছে, সে তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু বাকি ছেলেমেয়েরা যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য আমরা চাইছি, স্কুল চালু হোক। কিছু প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলি নিয়ে পরিচালন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করা দরকার ছিল। কমিটি বদলেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কমিটির কেউই হাজির হলেন না। যদিও কমিটির সভাপতি নরেশ পাল বলেন, এই পরিস্থিতিতে কমিটির কেউই আসতে চাইছেন না। বিশেষ করে বৈঠকে প্রধান শিক্ষককে থাকতেই হবে। কিন্তু তিনি ছুটিতে রয়েছেন। আমি একা তো কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে বসা হবে।  অভিযোগকারীর আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিচারক পকসো ধারা যুক্ত করার আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি এডিজে কোর্টে পাঠিয়ে দেন। সেখানে গেট প্যাটার্নের হেয়ারিং চলে। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্রুত ফাঁসির দাবিতে মুরারই থানায় বিক্ষোভ দেখান এলাকার দিশম আদিবাসী গাঁওতার সদস্যরা। এদিন রামপুরহাটে মৌন মিছিল করে বিজেপি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ