Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোষাগারে টান, পুরকর আদায়ের উপর জোর রামপুরহাট পুরসভার

কর আদায় আশানুরূপ না হওয়ায় রামপুরহাট পুরসভার কোষাগারে টান পড়েছে। মৌখিক ভাবে ও নোটিস পাঠিয়ে পুরকর মেটানোর আবেদন জানালেও অনেকেই তাতে কান দিচ্ছেন না।

কোষাগারে টান, পুরকর আদায়ের উপর জোর রামপুরহাট পুরসভার
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কর আদায় আশানুরূপ না হওয়ায় রামপুরহাট পুরসভার কোষাগারে টান পড়েছে। মৌখিক ভাবে ও নোটিস পাঠিয়ে পুরকর মেটানোর আবেদন জানালেও অনেকেই তাতে কান দিচ্ছেন না। তাই কোষাগারের হাল ফেরাতে পুজোর আগে বিশেষ অফার দিল পুরসভা। শহরজুড়ে মাইকিং করে পুরসভা ঘোষণা করছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া কর মেটালে ৪০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দারা যাতে তাঁদের সহজেই এই কর জমা করতে পারেন, সেজন্য পাড়ায় সমাধান ক্যাম্পগুলিতে বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।  

Advertisement

করোনা ভাইরাসের জেরে দু’‌ বছর রামপুরহাট পুরসভা কর আদায়ে জোর দেয়নি। মানুষের উপর যাতে চাপ না পড়ে তাই ধীরে চলো নীতি নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে অনাদায়ী কর আদায়ে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তাতে কিছুটা সাড়া মিললেও এখনও প্রায় দু’ কোটি টাকার উপর কর অনাদায়ী। 
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে বছরে ৪ কোটি টাকা কর আদায় হওয়ার কথা, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কর পাওয়াছ গিয়েছিল ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সেটা বেড়ে হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। তাই নতুন অর্থবর্ষে সম্পত্তি কর আদায়ের ক্ষেত্রে নয়া পন্থা নিয়েছে পুরসভা। গত এপ্রিল, মে ও জুন মাসে কর দিলে ১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল পুরসভা। তবে বকেয়া করের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল না।  
চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, সম্পত্তি করের উপরই পুরসভা চলে। কর আদায় আশানুরূপ না হওয়ায় পুরসভার শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। এছাড়া নানা উন্নয়নমূলক ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের খরচ এই পুরকর থেকেই করা হয়। তিনি বলেন, যাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ অনেক বেশি এবং তা দশ বছরের বেশি সময় ধরে বাকি রয়েছে তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। 
চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিগত ২৯ বছর ধরে কর দিচ্ছে না রেল। ফলে জমতে জমতে বকেয়া করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬০৩ টাকা। অন্যদিকে ২০ বছর ধরে কর না দেওয়ায় রামপুরহাট মহকুমার প্রধান ডাকঘরের বকেয়া কর দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫১৫ টাকা। তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাতে ডাকঘর সম্পত্তি কর নয়, সার্ভিস চার্জ দিতে রাজি হয়েছে। আর রেল কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। তাই রেল কর্তৃপক্ষকেও লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হবে। 
সূত্রের খবর, এখন রামপুরহাট পুরসভার অনাদায়ী সম্পত্তি করের পরিমাণ ৬ কোটি ৭২ লক্ষ ১০ হাজার ৩১১ টাকা। বছর বছর এই পরিমাণ বাড়ছে। যার জেরে কোষাগারের হাল অত্যন্ত খারাপ। উন্নয়নের কাজ থমকে যাচ্ছে। বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। তাই পুজোর আগে অনাদায়ী করের উপর বিশেষ ছাড় ঘোষণা করল পুরসভা। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এরপরও যদি নাগরিকদের হুঁশ না ফেরে তাহলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ