Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা বেঁধে দিল রামপুরহাট পুরসভা

যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা বেঁধে দিল রামপুরহাট পুরসভা
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শহরে দুর্ঘটনা রোধে রাস্তায় যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা বেঁধে দিল রামপুরহাট পুরসভা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ, বাজার ও জনবহুল এলাকায় যানবাহন চলাচলের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫-৩০কিলোমিটার। সেইমতো শহরজুড়ে ফ্লেক্স-বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দিয়েছে পুরসভা। উল্লেখিত গতিবেগের বেশি হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতখানি কার্যকরী হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান শহরবাসী।

Advertisement

রামপুরহাট শহরের ভিতরের রাস্তা বেশ সঙ্কীর্ণ। তার উপরে রয়েছে টোটোর দাপট। ফলত, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ জখম হচ্ছেন, কেউবা মারা যাচ্ছেন। তবুও, অটো, টোটো ও বাইক একপ্রকার ঝড়ের গতিতে চলাচল করে। গতিবেগ এতই বেশি থাকে যে, দুর্ঘটনা ঘটলে বাঁচার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটলে অপেক্ষাকৃত ‘ভাগ্যবানরা’ হাসপাতালে পৌঁছচ্ছেন। বেপরোয়া বাইক চালকদের বিরুদ্ধে পুলিস মাঝেমধ্যে ধরপাকড় শুরু করে। কিন্তু, অটো ও টোটো চালকদের বিরুদ্ধে সেভাবে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না বলে অভিযোগ শহরবাসীর। ফলে কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারীদের। রাতে বাইকের তাণ্ডবে প্রায়ই জখম হচ্ছেন পথচারী থেকে সাইকেল আরোহী।
শহরের বাসিন্দা তীর্থঙ্কর বিশ্বাস বলেন, বিশেষ করে স্কুল-টাইমে বাইক বাহিনীর দাপট বাড়ে। নিছক অ্যাডভেঞ্চারের শখ, কিংবা রোমিও সেজে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গতির দৌড়ে একে অপরকে টেক্কা দিয়ে চলতে থাকে বাইক। রাস্তায় বেপরোয়া বাইকের দৌরাত্ম্য রুখতে ট্রাফিক পুলিসের পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ আয়োজনের বিরাম নেই। হেলমেট না থাকলে তা কিনে পরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও নতুন নয়। তারপরেও যে তেমনভাবে সচেতনতা বাড়েনি, বাইক-দাপট থেকেই তা স্পষ্ট। এমনকী, তারাপীঠে আগত পর্যটকবোঝাই অটোগুলিও বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে।
এর আগে রামপুরহাটে পরপর দুঘর্টনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। 
এরপরই পুলিস-প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বৈঠকে ঠিক করে, শহরের ভিতর দিয়ে যাওয়া জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ৪০কিলোমিটারের মধ্যে রাখার উপর জোর দেওয়া হবে। শহরে টোটো চলাচলে গতিবিধির উপরে নজরদারি এবং রাতে দুর্ঘটনা রুখতে সড়কের বেশকিছু মোড়ে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু, সেই সিদ্ধান্ত খাতায়-কলমেই থেকে গিয়েছে। সড়কের দু’ধারের পথবাতিগুলি বিকল হয়ে পড়লেও তা সারানো হয় না।
এবার শহরের রাস্তায় যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ করা হল। প্রশাসনিক কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও আবাসিক এলাকায় যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি থাকবে ঘণ্টায় ২৫-৩০কিলোমিটারের মধ্যে। গতিসীমা লঙ্ঘনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের মতে, দুর্ঘটনার শতকরা ৭০-৮০ভাগই ঘটে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে। তাই গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দুর্ঘটনা কমে যাবে। যদিও শহরবাসীর অভিযোগ, এর আগেও দুর্ঘটনারোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল। বাইরের টোটো শহরে ঢুকতে পারবে না। জোড়-বিজোড় নীতিতে টোটো চলাচল করবে। কিন্তু, কিছুই কার্যকর হয়নি। তেমনি গতিসীমা বিধিও কাগজেই থেকে যাবে। শহরবাসীকে আতঙ্ক নিয়েই পথ চলতে হবে।
পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, এই আইন কার্যকর করার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিসের। খুব শীঘ্রই প্রশাসনের সঙ্গে এব্যাপারে বৈঠকে বসা হবে। কলকাতায় সকলেই আইন মেনে চলে। নইলে জরিমানার মুখে পড়তে হয়। এখানেও একই পদক্ষেপ নিতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ