Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর আগে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ নয়, মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করে আবেদন জানালেন রামপুরহাটের বিধায়ক

রামপুরহাটে পুজোর আগে ফুটপাতে থাকা দোকান উচ্ছেদ নয়

পুজোর আগে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ নয়, মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করে আবেদন জানালেন রামপুরহাটের বিধায়ক
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে পুজোর আগে ফুটপাতে থাকা দোকান উচ্ছেদ নয়। মঙ্গলবার মহকুমাশাসকের সঙ্গে দেখা করে এমনই আবেদন জানালেন এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পুজোর পর ফুটপাত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসব। যাতে তাঁদের পুনর্বাসন হয় সেই চেষ্টা করব। অবশেষে দেরিতে হলেও বিধায়কের এই পদক্ষেপে খুশি ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। 

Advertisement

গতবছর পুজোর আগে রামপুরহাট শহর জুড়ে রাস্তার দুধারে থাকা ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। তার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, তিনদিন আন্দোলন চলার পর পুরসভা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক মাসের মধ্যে জায়গা দেখে ছয় মাসের মধ্যে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপরই শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহরের ডাকবাংলো মোড়ে থাকে পশু হাসপাতাল সরিয়ে কিষাণ মাণ্ডিতে নিয়ে যাওয়া হবে। পশু হাসপাতালের জায়গা ফুটপাত ব্যরসায়ীদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে। আপাতত টেবিল লাগিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন তাঁরা। কিন্তু অভিযোগ, বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। এদিকে ঝড়, জল, তীব্র রোদের মধ্যে খোলা আকাশের মধ্যে পসরা নিয়ে যাওয়া আসা করে তাঁদের ব্যবসা করতে হচ্ছে। টোটো ও মোটরভ্যানে মালপত্র নিয়ে যাওয়া আসা করতে গিয়ে তাঁদের আয়ের একটা বড় অংশ ভাড়াতেই চলে যাচ্ছে। যদিও অনেক জায়গায় বাঁশ পুঁতে ত্রিপল টাঙিয়ে কোথাও সাঁটার লাগিয়ে স্থায়ীভাবে দোকানঘর করে ব্যবসা শুরু হয়েছে। 
প্রশাসনিক নির্দেশ উপক্ষো করায় পদক্ষেপ করেন মহকুমা শাসক। অভিযোগ, এর মধ্যে কোনওদিন মহকুমা শাসক দোকানে এসে ত্রিপল ছিঁড়ে মালপত্র ফেলে দিচ্ছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর জেসিবি ও পুলিস নিয়ে এসডিও বাংলো লাগোয়া এলাকায় থাকা স্থায়ী দোকান ভাঙতে আসেন প্রশাসনিক কর্তারা। যদিও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়ে ফিরতে হয় তাঁদের। গত শুক্রবার তাঁর অফিসের পাঁচিল লাগোয়া একটি চশমার দোকানে এসে একইভাবে মালপত্র ফেলে দেন মহকুমা শাসক। যার জেরে পথ অররোধ করেন ব্যবসায়ীরা। এই নিয়ে স্থানীয় বিধায়কের ভূমিকা তুলে ধরে সোচ্চার হন ফুটপাত ব্যবসায়ীরা। তাঁরা যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছেন। তেমনি ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছেন অনেকে। অবশেষে এদিন এসডিওর সঙ্গে দেখা করে পুজোর আগে ফুটপাতে থাকা দোকান ভাঙা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানান বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ফুটপাত ব্যবসায়ীরাও বিধায়কের সঙ্গে দেখা করে ধন্যবাদ জানান। যদিও মহকুমাশাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, ফুটপাতে হকারদের ব্যবসা করতে কোনও অসুবিধে নেই। যারা চেয়ার টেবিল লাগিয়ে ব্যবসা করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ হবে না। কিন্তু যারা সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে পাকা বা স্থায়ী দোকান করবেন তাঁদের রেয়াত করা যাবে না।   ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ