Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট: ছাত্রীর দেহাংশ পচানোর জন্য রাসায়নিক মিশিয়েছিল অভিযুক্ত শিক্ষক

নাবালিকা ছাত্রীর টুকরো টুকরো দেহাংশ পচানোর জন্য কেমিক্যাল মিশিয়ে ছিল অভিযুক্ত শিক্ষক মনোজ পাল। বস্তাবন্দি করে লাশ গায়েব করে সে কী করে বাঁচবে, তার জন্য আইনি পরামর্শ নিতে সিউড়ি ছুটেছিল।

রামপুরহাট: ছাত্রীর দেহাংশ পচানোর জন্য রাসায়নিক মিশিয়েছিল অভিযুক্ত শিক্ষক
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকা ছাত্রীর টুকরো টুকরো দেহাংশ পচানোর জন্য কেমিক্যাল মিশিয়ে ছিল অভিযুক্ত শিক্ষক মনোজ পাল। বস্তাবন্দি করে লাশ গায়েব করে সে কী করে বাঁচবে, তার জন্য আইনি পরামর্শ নিতে সিউড়ি ছুটেছিল। এমনকী হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যাওয়ার ছকও কষেছিল। রবিবার সংবাদ মাধ্যমে এমনই বিস্তারিত জানিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন অভিযুক্তের আইনজীবী অনিন্দ্য সিংহ। তিনি বলেন, ওই শিক্ষক প্রথমবার রামপুরহাট থানা থেকে ছাড়া পেতেই হাইকোর্টের এক আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে গত ৭ সেপ্টেম্বর সিউড়ি এসে আমার কাছে আইনি পরামর্শ চায়। বাঁচার জন্য সে খুনের কথা লুকিয়ে যায়। 

Advertisement

অনিন্দ্যবাবু বলেন, ওই শিক্ষক আমার কাছে এসে জানায়, তার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী বয়েজ হস্টেলে ধরা পড়ে। তার জন্য সে এবং সহ শিক্ষকরা মেয়েটিকে বকাঝকা ও গার্জেন কল করে। এরপরই ওই নাবালিকা ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যায়। বাড়ির লোক সন্দেহ করে তার জন্যই ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। সেই মতো ৩০ আগস্ট ছাত্রীর পরিবার স্কুলে এসে তাকে হেনস্তা করে।  ছাত্রীকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তাকে চেপে ধরে। খবর পেয়ে পুলিস তাকে থানায় নিয়ে এসে পাঁচদিন আটক করে রাখে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিস সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। মেয়েটি যদি কোনও কারণে ফিরে না আসে, তার যদি দেহ না উদ্ধার হয়, খুন হয়ে যায়, পচাগলা দেহ উদ্ধার হলে তার বিরুদ্ধে কী কী ধারায় মামলা হতে পারে, সেই বিষয়ে পরামর্শ চায়। পকসো ধারা যুক্ত হবে কি না, সেটাও জানতে চায়। ডিএনএ পরীক্ষা করে দেহ কীভাবে শনাক্ত হয়? সেক্ষেত্রে আগাম জামিন কীভাবে পাওয়া যাবে, তাও জানতে চায়। এরপর দিন সে কাউকে না জানানোর আবেদন করে বলে, আ঩মি মেয়েটিকে দু’দিন বাড়িতে আটকে রেখেছিলাম। গত ২৮ আগস্ট মেয়েটি যখন রামপুরহাটে আসে, তখন তাকে বোঝানোর জন্য বাইকে চাপিয়ে বীরচন্দ্রপুরে নিয়ে যাই। সেখানে মন্দিরে ভোগ খাই। ফেরার পথে তারাপীঠের একটি দোকানে ওই ছাত্রীর জন্য কিছু জামাকাপড় কিনি। যেহেতু সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল তাই নিজের ভাড়া বাড়িতে থাকার জন্য ছাত্রীকে প্রস্তাব দিই। ছাত্রী রাজি হয়। ২৯ আগস্ট মেয়েটির খোঁজে আমার বাড়িতে আসে ছাত্রীর পরিবার। সেই সময় ছাত্রীকে ঘরের ভিতরে আটকে রেখেছিলাম। সে দাবি করে, পরের দিন ভোরে ছাত্রীকে তার বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে খুনের দায় স্বীকার করেনি। টানা তিনদিন সে সিউড়ি থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। তবে তাকে খুব নার্ভাস লাগছিল এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিল। ভেবেছিলাম হয়তো ভয় পেয়ে নার্ভাস হয়ে পড়েছে। পরে যখন সে নিশ্চিত হয়, যে পুলিস তাকেই টার্গেট করছে এবং এঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন সে হিমাচলপ্রদেশে পালিয়ে যেতে টিকিটও কেটে ফেলেছিল। কিন্তু, এরই মধ্যে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সেই সময় তার হয়ে মামলা লড়ার জন্য‌ ঩ফোন করেছিল শিক্ষক। পরে তদন্তকারী অফিসারের কাছ থেকে জানতে পারলাম, ওই শিক্ষক খুনের দায় স্বীকার করেছে। ২৯ আগস্ট ভোরে ভাড়া বাড়ির বাথরুমে খুন করা হয়েছে। এরপর কেমিক্যাল মিশিয়ে দেহ তিনটি বস্তাবন্দি করে। ওই ভোরেই দু’টি বস্তা নিয়ে এসে রামপুরহাটে জঙ্গলে ঘেরা সেচ নালায় এবং অপর বস্তা অন্য জায়গায় ফেলে দেয়। একটি নাবালিকা ছাত্রীকে এভাবে জঘন্য হত্যার নিন্দা জানায়। তাই মানবিকতার খাতিরে এই মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। আমার বাড়িতেও মা, বোন, মেয়ে রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ