Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রমনাবাগান, পশুদের কাটাতে হচ্ছে ‘নাইট শেল্টারে’

বেহাল পরিকাঠামোর জন্য আপাতত পর্যটকদের জন্য‌ বন্ধ হয়ে গেল রমনাবাগানের গেট।

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রমনাবাগান, পশুদের কাটাতে হচ্ছে ‘নাইট শেল্টারে’
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বেহাল পরিকাঠামোর জন্য আপাতত পর্যটকদের জন্য‌ বন্ধ হয়ে গেল রমনাবাগানের গেট। নিকাশির অভাবে চারদিক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জল না কমা পর্যন্ত রমনাবাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন ‘নাইট শেল্টারে’ কাটাতে হচ্ছে বাঘ, হরিণ সহ অন্যান্য জীরজন্তুকে। দিনের পর দিন এই অবস্থা চললে পশুগুলি অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার একটি হরিণের বাচ্চা মারা যায়। যদিও আধিকারিকদের দাবি, হরিণছানাটি  জন্মানোর পর থেকেই অসুস্থ ছিল। শুক্রবার বাচ্চা হরিণটি মারা যায়। তার দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রমনাবাগানের গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এদিন অনেকেই ঘুরতে এসে ফিরে যান। ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা বলেন, নীচু এলাকায় জল জমে থাকায় আপাতত রমনাবাগানের গেট বন্ধ করতে হয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি খোলা হবে। কবে আবার পর্যটকরা এখানে আসতে পারবেন, তা নোটিস দিয়ে জানানো হবে। 

Advertisement

এক আধিকারিক বলেন, এই পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি। কয়েক দিন আগে ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। তখন থেকেই রমনাবাগানের চারদিক জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পাশ দিয়ে বড় খাল চলে গিয়েছে। ওই খাল দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এই পরিস্থিতি হয়েছে। অল্প বৃষ্টি হলেই জল খাল টপকে জুলজিক্যাল পার্কে ঢুকে যাচ্ছে। খাল সংস্কারের জন্য একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারপরও সংস্কার হয়নি। আধিকারিকদের অনেকে বলছেন, দীর্ঘদিন নাইট শেল্টারে  থাকলে পশুদের নানা রোগ হতে পারে। এদিন রমনাবাগানে ঘুরতে আসা মৌসম দাস নামে এক শিক্ষক বলেন, এই কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হয়নি। তারপরও চারদিক জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। খাল গুলি সংস্কার করা দরকার। বিভিন্ন খাতে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আরেক পর্যটক সৌমাল্য চক্রবর্তী বলেন, রমনাবাগান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকার টাকা বরাদ্দ করে। সেই টাকায় কেন পার্কের কাজ করা হচ্ছে না। এভাবে দিনের পর দিন গেট বন্ধ থাকলে পর্যটকরাও উৎসাহ হারাবে। তাছাড়া এই পরিবেশে থাকলে জন্তুগুলিও অসুস্থ হয়ে পড়বে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে একটি কুমির মারা গিয়েছে। এদিন একটি হরিণবাচ্চা মারা গেল। দক্ষিণবঙ্গে এই ধরনের পার্ক আর নেই। ফলে অনেকেই এখানে ঘুরতে আসে। সেটিও এভাবে সৌন্দর্য হারিয়ে ফেললে ছাত্রছাত্রীরা যাবে কোথায়?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ