Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিভিকদের মূল্যবোধের পাঠ রামকৃষ্ণ মিশনের, আসানসোলে শুরু প্রশিক্ষণ

সিভিকদের মূল্যবোধের পাঠ রামকৃষ্ণ মিশনের, আসানসোলে শুরু প্রশিক্ষণ
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বেশ কয়েকদিন আগের ঘটনা। রানিগঞ্জের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, এক সিভিক ভলান্টিয়ার লরি চালকের কাছ থেকে জোর করে টাকা তোলার চেষ্টা করছে। টাকা না দেওয়ায় মারধরের চেষ্টাও চালায়। নিমেষে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা পায় পুলিস। ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাসপেন্ড করা হয় এক কনস্টেবলকেও। এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। সিভিক ভলান্টিয়ারদের উগ্রমূর্তি দেখে অনেকেই বিরক্ত। আখেরে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে পুলিসের।

Advertisement

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই অবস্থা বদল করতে এগিয়ে এল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেট। এবার সিভিক ভলান্টিয়ারদের মূল্যবোধের পাঠ দেওয়া শুরু করলেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজরা। জানা গিয়েছে, প্রথমদিনই মহারাজরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করা সিভিক ভলান্টিয়ারদের মূল্য঩বোধের পাঠ দিয়েছেন। কীভাবে মিলবে মানসিক শান্তি, তা তুলে ধরেছেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী সোমাত্মানন্দ। সঙ্গে ছিলেন স্বামী অনিশানন্দ। মঙ্গলবার আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের আইটিআ‌঩ইয়ের কনফারেন্স হলে এই কর্মসূচি হয়। সেখানে ডেপুটি পুলিস কমিশনার ভিজি সতীশ পশুমূর্তি ছাড়াও দুই এসিপি পদমর্যাদার আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
ডিসি(ট্রাফিক) ভিজি সতীশ পশুমূর্তি বলেন, সারাদিন রোদ, বৃষ্টি, জলে সিভিক ভলান্টিয়ার ও ট্রাফিক পুলিসকে ডিউটি করতে হয়। অনেক সময় ট্রাফিক আইন ভাঙলে তাঁদের ফাইন করতে হয়। টাকা দিতে হলেই মানুষের গায়ে লাগে। বহু মানুষই তাঁদের খারাপ কথা শুনিয়ে দেয়। অনেক সময় তাঁরা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। আমাদের মনে হয়ে মেন্টাল স্ট্রেস কমানো ভীষণভাবে প্রয়োজন। তাই রামকৃষ্ণ মিশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সিভিক ভলান্টিয়ারের পাশাপাশি ট্রাফিক কর্মীরা মানসিক চাপ কমাতে মহারাজদের বার্তা শুনছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারের সিভিক বিড়ম্বনা চলছে। প্রথমে থানায় থানায় তারা সিভিক পুলিস হিসেবে নিযুক্ত হয়। কিন্তু, নানা তথ্য পাচারের অভিযোগে তাদের সিভিক ভলান্টিয়ারের মর্যাদা দেওয়া হয়। তারপরও বিভিন্ন কোর্টের রায়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজের গণ্ডি বাঁধা হয়েছে। বারবার উঠে এসেছে অধিকারের বাইরে গিয়ে সিভিকদের দাদাগিরির অভিযোগ। বিশেষ করে রাস্তায় হাত পেতে টাকা নেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশের কুকীর্তির জেরে তাদের বহু ভালো কাজ চাপা পড়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগেই দুর্গাপুর ট্রাফিক গার্ডের সিভিক ভলান্টিয়ারের তৎপরতায় এক শিশুকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়। রাস্তায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষ থেকে শুরু করে অবলা প্রাণীদের প্রাণ রক্ষা করতেও দেখা গিয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের। এবার তাদের মানসিক শান্তি দিয়ে সেই কাজে বাড়তি উৎসাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিস।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ