সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকায় বিষ্ণুপুরের রামকৃষ্ণ আশ্রম নতুন করে ঢেলে সাজছে। মা সারদা স্মৃতি বিজড়িত ওই আশ্রমে একটি বিবেকানন্দ পাঠচক্রের সংস্কার ও সারদার একটি বেদী নির্মাণ করা হয়েছে। আজ, শুক্রবার তার উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিধায়ক তন্ময় ঘোষ, জেলাশাসক ও অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে।
আশ্রমের সম্পাদক অসিত চন্দ বলেন, শহরের রামানন্দ কলেজের গায়ে অবস্থিত আশ্রমটি একসময় দুঃস্থ ছাত্রদের আশ্রয়স্থল ছিল। আশ্রমে থেকে তারা পড়াশোনা করতে পারত। পরবর্তীকালে সংস্কারের অভাবে সেই সব বিল্ডিং নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে আমাদের বিধায়ক আশ্রমের উন্নতিকল্পে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় আশ্রমের সংস্কার কাজ হয়েছে। নতুন করে ঢেলে সাজা হচ্ছে। এছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এবং মনোরম পরিবেশে অবস্থিত আশ্রমের আরও উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আমরা বেলুড় মঠের কাছে আবেদন জানিয়েছি।
আশ্রমের অন্যতম কর্মকর্তা দেবাশিস সরকার, আদিত্য প্রসাদ ঘোষ, অলোককান্তি আচার্য বলেন, আশ্রমে নিত্যপুজো ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য শিবির, বস্ত্রদানের মতো সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হয়।
আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, মা সারদা জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুরে ট্রেন ধরার জন্য গোরুর গাড়িতে করে আসতেন। দীর্ঘ যাত্রাপথে আসার সময় লালবাঁধের সামনে গাছের ছায়ায় তিনি বিশ্রাম নিতেন। সেখানেই বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা সুরেশ্বর সেন মায়ের সান্নিধ্যলাভ করেন। তারপর থেকে তিনি বিষ্ণুপুরে যাতায়াতের পথে সেন বাড়িতে উঠতেন। পরবর্তীকালে বিশ্রামের জায়গাটিকে সংরক্ষিত রাখার জন্য সেন পরিবারের তরফে ১০বিঘা জমি দান করা হয়। ১৯৫৩সালে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। ধীরে ধীরে সেখানে আশ্রম তৈরি করা হয়। দুঃস্থ ছাত্রদের পড়াশোনার জন্য একটি স্কুল ও ছাত্রাবাস তৈরি হয়। যদিও পরবর্তীকালে আর্থিক সঙ্কটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। সংস্কারের অভাবে বিল্ডিংগুলিও ভেঙে পড়ে। সম্প্রতি বিষ্ণুপুরের বিধায়ক আশ্রমের সংস্কারের জন্য তাঁর এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে দু’লক্ষ টাকা দেন। তাতে বিবেকানন্দ পাঠচক্রের সংস্কার করা হয়। একটি বেদী তৈরি করা হয়। আজ, শুক্রবার তার উদ্বোধন হবে।