Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গরম উপেক্ষা করেই শোভাযাত্রা, সম্প্রীতির রামনবমী, তাল কাটল অস্ত্র মিছিলে

গরম উপেক্ষা করেই শোভাযাত্রা, সম্প্রীতির রামনবমী, তাল কাটল অস্ত্র মিছিলে
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: চৈত্রের রোদ। অসহ্য গরম। তা সত্ত্বেও রবিবার উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র শোভাযাত্রা বের করেন রাম ভক্তরা। তাঁদের কারও হাতে রাম, আবার কারও হাতে ছিল হনুমানের ছবি দেওয়া পতাকা। কোথাও শোভাযাত্রায় পুষ্প বৃষ্টি করেছেন রাস্তার পাশে দাঁড়ানো ইমতিয়াজ-আনোয়াররা। আবার কোথাও তাঁরা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জল পান করিয়েছেন। তাতে শামিল হন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। সব মিলিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসবের রূপ নেয় রামনবমী। কিন্তু ডিজে বক্সের দাপট ও অস্ত্রের ঝনঝনানি উৎসবের আমেজে তাল কেটেছে। এনিয়ে দর্শনার্থীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। উত্তরবঙ্গ পুলিসের এক অফিসার অবশ্য বলেন, কোথাও শোভাযাত্রা ঘিরে তেমন কোনও ঝামেলা হয়নি। রামনবমী সুষ্ঠুমতোই হয়েছে। তবে অস্ত্র হাতে মিছিলকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। 

Advertisement

কয়েকদিন আগেই গেরুয়া পতাকা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় শিলিগুড়ি শহর। এদিন সকাল হতেই রাস্তায় নামেন রামভক্তরা। কেউ বাইকে গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরএক প্রান্ত ছুটে বেড়ান। আবার কোনও কোনও এলাকা থেকে বাসিন্দারা রামের ছবি দিয়ে ট্যাবলো সাজিয়ে পদযাত্রা বের করেন। বেলা যত গড়িয়েছে শহরের হিলকার্ট রোড, বর্ধমান রোড, বিধান রোড, এসএফ রোড, সেভক রোড সর্বত্র ঠাসা ভিড় হয়। রাস্তাগুলি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। শহরের হাসমিচকে শোভাযাত্রায় ফুল ছেটান মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকরা। শোভাযাত্রীরা তাঁদের হাতজোড় করে শুভেচ্ছা জানান। হাসমিচকে, সেভক মোড়ে, মহত্মা গান্ধী মোড়ে জল ও সরবত বিলি করা হয়। হাসমিচকে মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু যুবক জল খাওয়ান শোভাযাত্রায় আসাদের। 
এদিকে, এদিন সকালেই শহরের রাস্তায় নামেন মেয়র গৌতম দেব। তিনি বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি রামনবমীর শোভাযাত্রাতেও অংশ নেন। তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভানেত্রী (সমতল) পাপিয়া ঘোষ সহ দলের নেতা-নেত্রীরা ছিলেন। নকশালবাড়িতে রামনবমীর অনুষ্ঠানে মঞ্চে পাশাপাশি বসেছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তৃণমূলের অরুণ ঘোষ ও দার্জিলিংয়ের বিজেপি এমপি রাজু বিস্তা। বাগডোগরা, ফাঁসিদেওয়া, খড়িবাড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়েও এদিন শোভাযাত্রা বের হয়েছে। বাগডোগরায় শোভাযাত্রার জেরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে। 
রামনবমী উপলক্ষ্যে কোচবিহারেও বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয়। শহরের জেনকিন্স স্কুলের মোড়ে জমায়েত হন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহনকারীরা।  সেখানে বিশাল বাহিনী নিয়ে উপস্থিত ছিলেন পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য। শোভাযাত্রাটি দাস ব্রাদার্স মোড়, বিএস রোড হয়ে মদনমোহন মন্দিরের সামনে দিয়ে গিয়ে ফের জেনকিন্স স্কুলের মোড়ে এসে শেষ হয়। এতে বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে, মিহির গোস্বামী, রামনবমী উদযাপন সমিতির প্রচার প্রমুখ সুকুমার ভট্টাচার্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। খাগড়াবাড়িতে শোভাযাত্রায় ছিল বুলডোজার। হলদিবাড়িতেও শোভাযাত্রা হয়। 
আলিপুরদুয়ার জেলা সদর শহর সহ ফালাকাটা, কুমারগ্রাম চা বাগান, বারোবিশা,  বীরপাড়া, জয়গাঁ, হাসিমারা ও কালচিনিতে শোভাযাত্রা বের করে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন সংগঠন। শোভাযাত্রার কারণে জংশন থেকে আলিপুরদুয়ার জেলা সদর পর্যন্ত একমুখী বক্সা ফিডার রোড কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। 
জলপাইগুড়ি শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলার পৌষালি দাসের উদ্যোগে রামনবমীর পুজোর পাশাপাশি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শহরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিজেপি সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায়। ধূপগুড়িতে কচিকাঁচারা রাম-সীতা ও হনুমান সেজে শোভাযাত্রায় শামিল হয়। ডুয়ার্সের নাগরাকাটা, মেটেলি, মালবাজার, ডামডিম, ওদলাবাড়ি, ক্রান্তি, বানারহাট, রাজগঞ্জ ও বেলাকোবাতেও শোভাযাত্রা বের হয়। এদিকে, শিলিগুড়িতে এই উৎসবের মেজাজে তাল কেটেছে অস্ত্র। লাঠি, কুড়ুল, তলোয়ার, ছুড়ি সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ