সংবাদদাতা, রামপুরহাট: একসঙ্গে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটল না। ফাটল দেখ গেল রাম-বাম জোটে। তীব্র সমালোচনার জেরে নলহাটি ২ ব্লকের শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের কামালপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে ভাঙল বিজেপি-সিপিএমের জোট। বেকায়দায় পড়ে এখন একা লড়াইয়ের বার্তা দিলেন বিজেপি নেতারা। যদিও তৃণমূলের কটাক্ষ, ওদের জোট দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী ১৩ এপ্রিল ছয়টি আসন বিশিষ্ট কামালপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন। গত সোমবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে সবক’টি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার বিজেপি ও সিপিএম একসঙ্গে সাতটি আসনে মনোনয়ন জমা দেন। জানা গিয়েছে, বিজেপির পক্ষ থেকে পাঁচটি ও সিপিএমের পক্ষ থেকে দু’টি মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াই করে তৃণমূলকে হারিয়ে শীতলগ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি জোট। সমবায় নির্বাচনেও একই কৌশল নেয় তারা।
মঙ্গলবার এলাকার বিজেপি নেতা ঝলক মণ্ডল স্পষ্টভাষায় বলেন, বিজেপি, সিপিএম মিলে মনোনয়ম জমা দিলাম। কংগ্রেসের কেউ নেই। সাহেবনগর ও টিঠিডাঙা মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় ওই দু’টি আসন সিপিএমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি গ্রামগুলিতে আমাদের শক্তি বেশি হওয়ায় সেখান থেকে প্রার্থী দিয়েছি। অন্যদিকে সিপিএমের এরিয়া কমিটির সদস্য রোহন শেখও বলেন, দু’টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছি। বাকিগুলিতে তেমন সংগঠন নেই। অনৈতিকভাবে সমবায় চালাচ্ছিল তৃণমূল। এই জায়গা ভাঙতে গিয়ে রাস্তায় এখন যদি বিজেপি এসে দাঁড়ায়, তাহলে তাদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করতে হবে। সিপিএম বিজেপির এই আঁতাত নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও রাম–বাম জোটকে কটাক্ষ করে প্রচার শুরু হয়।
অবশেষে ভিডিও বার্তা দিয়ে পাল্টা প্রচার শুরু করেন সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক খাইরুল হাসান। তিনি বলেন, ওই সমবায়ে নির্বাচন হচ্ছে জানি। কিন্তু কারা প্রার্থী হয়েছে জানা নেই। পার্টির নেতা হিসাবে আমি জানি, ওখানে আমাদের প্রার্থী দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। সুতরাং ওখানে আমাদের কোনও প্রার্থী নেই। কিন্তু মঙ্গলবারই তো দলের এরিয়া কমিটির সদস্য বলেছিলেন, দু’টি আসনে সিপিএমের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে? উত্তরে খাইরুল বলেন, রোহন কে? ওকি নেতা। ও একটা কমরেড। কোনও পরামর্শ না করেই বক্তব্য দিয়েছে। বিজেপির বক্তব্যকেও আমরা সমর্থন করছি না। এটা বিজেপি ও তৃণমূলের জঘন্য কালচার। সিপিএমকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে। এদিকে ঘরে বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ালেন রোহন ও ঝলক। এদিন রোহন বলেন, মঙ্গলবার বলতে ভুল হয়েছিল। দলের এরিয়া কমিটির সদস্য যেটা বলছেন, সেটাই ঠিক। ওখানে আমরা সাংগঠনিকভাবে খুবই দুর্বল। আমাদের কোনও প্রার্থী নেই।
অন্যদিকে ঝলক বলেন, এখন যদি ওরা বলে তাদের কোনও প্রার্থী নেই, তো নেই। ছ’টি আসনেই আমরা একাই লড়ব। এদিকে তৃণমূলের এই ব্লকের ফাইভ ম্যান কমিটির সদস্য আবু জাহের রানা বলেন, সিপিএম এখন প্রার্থী দিইনি বললে হবে! দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে ওদের জোট। মঙ্গলবার ওরা একসঙ্গে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, ওরা তত বেআব্রু হবে। প্রচারে তো প্রার্থীদের নিয়ে ঘুরবে। মানুষ ওদের চালাকি ধরে নিয়েছে। ছ’টি আসনেই গোহারা হবে ওরা।