সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অবশেষে ন’বছর পর নবরূপে ফিরছে রামপুরহাটের একমাত্র সাংস্কৃতিক মঞ্চ রক্তকরবী। আগামী ২৫ ডিসেম্বর মঞ্চের উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জোরকদমে চলছে সংস্কারের শেষ মুহূর্তের কাজ। খুশি এলাকার সংস্কৃতি প্রেমী মানুষজন।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অবশেষে ন’বছর পর নবরূপে ফিরছে রামপুরহাটের একমাত্র সাংস্কৃতিক মঞ্চ রক্তকরবী। আগামী ২৫ ডিসেম্বর মঞ্চের উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জোরকদমে চলছে সংস্কারের শেষ মুহূর্তের কাজ। খুশি এলাকার সংস্কৃতি প্রেমী মানুষজন।
বীরভূম জেলার নাট্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র রামপুরহাট। ১৯৯৫ সালে টাউন হল কর্তৃপক্ষের দান করা ১৫ কাঠা জায়গায় রক্তকরবী প্রেক্ষাগৃহের শিলান্যাস করেন তৎকালীন গ্রন্থাগার মন্ত্রী তপন রায়। ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই প্রেক্ষাগৃহটির উদ্বোধন করেন চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার। ৫২৬ আসন বিশিষ্ট মঞ্চটি পর্যাপ্ত আলো, পাখা ও সাউন্ড সিস্টেম ছাড়াই পথ চলা শুরু করেছিল।
২০১৬ সালে রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই মঞ্চটি আধুনিক মানের করে তুলতে শুরু করেন পুরসভার তৎকালীন পুরপ্রধান। ব্যয় ধার্য হয় প্রায় ন’ কোটি টাকা। সাংসদ শতাব্দী রায় সেই সময়ে ৬৬ লক্ষ টাকা দেন ও পুরদপ্তর থেকে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকায় মঞ্চের উপরের টিন বদলে অ্যাসবেসটস বসানো, অডিটোরিয়ামের চার দেওয়াল ছাড়াও সিলিংয়ে উন্নত মানের ম্যাগনেসিয়াম বোর্ড, ব্যালকনি, সেন্ট্রাল এসি ও বাইরের লুক পরিবর্তন করা হয়। এরপরই অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় সংস্কার। পুরসভা সূত্রে খবর, রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই সংস্কারের কাজে হাত দেওয়ায় এই অবস্থা হয়েছিল। টাকার অভাবে সেন্সর অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, দর্শকদের বসার জন্য পুশ ব্যাক সিট, স্টেজ, লাইট এবং ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম সহ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ন’ বছর ধরে পড়ে ছিল রক্তকরবী। মঞ্চের অভাবে শহরের সাংস্কৃতিক চর্চাও তলানিতে এসে ঠেকেছিল। অর্থ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুরমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুরসভার চেয়রাম্যান সৌমেন ভকত।
গত বছরের জানুয়ারি মাসে বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রক্তকরবীর বিষয়টি তুলে ধরেন শতাব্দী রায়। মুখ্যমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। সেইমতো এবছরের শুরুতে ইউডিএমএ থেকে দু’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। তার মধ্যে এক কোটি টাকা পেয়েও যায় পুরসভা। চেয়ারম্যানের দাবি, সেই টাকায় সিভিল ওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোনও কাজে হাত লাগানো যায়নি। ফলে রক্তকরবী খোলা যায়নি। অবশেষে গত জুন মাসে শতাব্দী রায় তাঁর এমপি ল্যাড থেকে ৯৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ করেন। এরপরই এজেন্সিকে দ্রুত কাজ শুরু করে ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করতে বলার পাশাপাশি নিজে কাজের তদারকি করেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে পুশ ব্যাক সিট ও মঞ্চের ফলস সিলিং করা ছাড়া বাকি কাজ প্রায় শেষ।
চেয়ারম্যান বলেন, শুধুমাত্র সোলার সিস্টেম হচ্ছে না। আগামী ২৫ ডিসেম্বর রক্তাকরবী মঞ্চের নবরূপের উদ্বোধনের লক্ষ্য রয়েছে। যদিও তার আগে সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা হবে, ওইদিন তিনি সময় দিতে পারবেন কি না।
অন্যদিকে আশিসবাবু বলেন, অর্থের সমস্যা মেটাতে রাজ্য সরকার এবং সাংসদ যথেষ্ট সহয়তা করেছেন। মঞ্চ চালু হলে সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ খুশি হবেন। রামপুরহাটে বড় হলের অভাব মিটবে।
শহরের নৃত্যশিল্পী বর্ণালি রায়মণ্ডল, সংগীত শিল্পী সানন্দা দাসমণ্ডল বলেন, রক্তকরবী মঞ্চ বন্ধ থাকায় শিল্পীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। মঞ্চ খুলে দেওয়ার খবরে আমরা উৎসাহ পাচ্ছি। ফের আমরা অনুষ্ঠান করতে পারব। -নিজস্ব চিত্র