নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নামেই প্র্যাকটিস ম্যাচ। ধাক্কাধাক্কি, লাল কার্ড, চোরাগোপ্তা ফাউল— বাদ রইল না কিছুই। রবিবার ইস্ট বেঙ্গল মাঠে মহমেডান স্পোর্টিংকে ২-০ গোলে হারাল অস্কার ব্রিগেড। শুরুতেই ডেভিডের লক্ষ্যভেদে লিড নেয় ইস্ট বেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধে কোনাকুনি শটে ব্যবধান বাড়ান নন্দকুমার। এদিন মহম্মদ রাকিপকে বিশ্রী ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন মহমেডানের দীনেশ। মাঠ থেকেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় রক্তাক্ত রাকিপকে। চোখের উপরে ৮টি সেলাই পড়েছে। নর্থইস্টের বিরুদ্ধে আইএসএলের ম্যাচে তিনি অনিশ্চিত। এই ঘটনার পরেই তেতে ওঠে গ্যালারি। মেজাজ হারিয়ে দীনেশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে তেড়ে যান লাল-হলুদ কোচ। ম্যাচের পর ক্ষুব্ধ অস্কার বললেন, ‘অনভিপ্রেত ঘটনা। রাকিপের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’ এমনিতেই চোটের কারণে মহেশ নেই। এমন অবস্থায় রাকিপের চোট অস্বস্তি বাড়াল। তবে নতুন স্ট্রাইকার ইউসেফকে এদিন খেলানো হয়নি।
আইএসএলে ১৬ ফেব্রুয়ারি নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করছেন মিগুয়েলরা। তার আগে কতটা তৈরি দল? সেটা বুঝে নিতেই প্র্যাকটিস ম্যাচের আয়োজন। গ্যালারিতে হাজির ছিলেন অসংখ্য সমর্থক। তবে জিতলেও ইস্ট বেঙ্গলের খেলায় বাঁধুনির অভাব স্পষ্ট, যা চিন্তায় রাখবে স্প্যানিশ কোচকে। পাশাপাশি কিশোর ভারতীতে খেলা নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত। বেশ কিছু সমর্থককে বিরক্তি প্রকাশ করতে শোনা যায়। জেলা থেকেও প্রচুর মানুষ খেলা দেখতে আসেন। রাতের ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরা সত্যিই সমস্যার। মোহন বাগান সবকটি হোম ম্যাচই যুবভারতীতে খেলবে। সেখানে খরচ বাঁচাতে ইস্ট বেঙ্গলের কিশোর ভারতী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত সত্যিই বিস্ময়কর। লগ্নীকারী সংস্থার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ক্লাব কর্তারা ইতিমধ্যে কিশোর ভারতীতে খেলা না দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকারের মন্তব্য, ‘সদস্য, সমর্থকরা দলের আসল শক্তি। তাঁদের বঞ্চিত করে ম্যাচ দেখার প্রশ্ন নেই।’ এদিকে, মহিলা লিগের চূড়াম্ত পর্বের সব ম্যাচ নিজেদের মাঠে খেলতে চায় ইস্ট বেঙ্গল।