সংবাদদাতা, বহরমপুর: মূলত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই বাংলা ভাষায় কথা বললে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা করা হচ্ছে। তাই শনিবার রাখিবন্ধন উৎসবে তামাম মুর্শিদাবাদে বাঙালি আবেগ ধরা পড়ল। রাজনৈতিক দল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ক্লাবের পক্ষ থেকে রাখি পরিয়ে বাঙালি ও বাংলাভাষার প্রতি অশ্রদ্ধার প্রতিবাদ জানানো হলো। একই সঙ্গে বহরমপুর শহর সহ জেলার সমস্ত জায়গা রাখিবন্ধন উৎসবে জমজমাট ছিল দিনভর।
এদিন বহরমপুর শহরের গির্জার মোড়, স্বর্ণময়ী বাজার, মোহনের মোড়, কলেজ ঘাট এলাকায় পথচলতি মানুষ, রিক্সা চালক, অটোচালকদের হাতে রাখি পরিয়ে তাঁদের মিষ্টিমুখ করাতে দেখা গিয়েছে কিশোর যুবতীদের। মুর্শিদাবাদ বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, সেদিন ব্রিটিশের চক্রান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীরা। আজ এই বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত চলছে। বাংলা ভাষাকে অপমানের চক্রান্ত চলছে। সেসব চক্রান্তকারীদের জবাব দিয়েছি আমরা রাখিবন্ধনের মাধ্যমে।
বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের উদ্যোগে সদর কার্যালয়ে রাখিবন্ধন উৎসব পালিত হয় এদিন। তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন, জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা রাস্তায় নেমে পথচারীদের হাতে রাখি পরিয়ে বাঙালি ও বাংলাভাষার অপমানের প্রতিবাদে সোচ্চার হন। বেলডাঙা শহরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুরসভার পক্ষ থেকে রাখি পরিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি অশ্রদ্ধার প্রতিবাদ জানানো হয়। পুর চেয়ারম্যান অনুরাধা হাজরা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলা ভাষাকে যারা হেয় করতে চাইছে রাখিবন্ধনের মাধ্যমে তার প্রতিবাদের সুর বেঁধে দেওয়া হল।
কান্দি মহকুমার পাঁচটি থানা এলাকাতেই পুলিসের পক্ষ থেকে রাখিবন্ধন উৎসব পালিত হয়। তার মধ্যে খড়গ্রাম থানার পক্ষ থেকে উৎসবকে সামনে রেখে পথচলতি মানুষকে ট্রাফিক আইনের নিয়মাবলী ও হেলমেট ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এদিন খড়গ্রাম হাসপাতালের রোগীদের হাতে রাখি পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে রাখিবন্ধন উৎসবে মেতে ওঠেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা।