নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিলের নাম ‘দ্য কেরালা (অলটারেশন অব নেম) বিল, ২০২৬’। অর্থাৎ, কেরলের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিল। বুধবার রাজ্যসভায় পাস হয়েছে ওই বিল। কিন্তু এই বিল পাসের সময় আলোচনায় বারবার উঠে এল বাংলার প্রসঙ্গ। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের অভিযোগ, ‘বাংলা’ নাম চাইলেও তা দেয়নি কেন্দ্র। পালটা বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যর দাবি, ওয়েস্ট বেঙ্গল বা বাংলা নয়। রাজ্যের নাম হোক ‘পশ্চিমবঙ্গ’। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এদিন বিল পাসের আলোচনা চলাকালীন তৃণমূল সাংসদ ডেরেকের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতায় সোচ্চার হলেন প্রাক্তন টিএমসি এমপি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।
এদিন ডেরেক বলেন, ‘গত আট-দশ বছর ধরে আমরা রাজ্যের নাম বদলে বাংলা করতে চেয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা পাইনি।’ রাজ্যসভায় উল্লিখিত বিল পাসের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেন উপস্থিত নেই, সেই প্রশ্নও তোলেন ডেরেক। সেই সময় চেয়ারে ছিলেন সস্মিত পাত্র। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই উপস্থিত আছেন।’ ডেরেক বলেন, ‘রাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন যখন, ভালো কথা। সংসদে এত এত বিল পাস হচ্ছে।’ তখনই উঠে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান বিজেপি সাংসদ সুখেন্দুবাবু। রুল ২৪০-এর প্রসঙ্গ টেনে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলেন তিনি। বলেন, ‘বিল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন তৃণমূল সাংসদ।’ প্রতিবাদ জানান শমীক ভট্টাচার্যও। ডেরেকের অভিযোগ, ‘একজন বিরোধী দলের সাংসদকে মাত্র তিন মিনিট বক্তব্য পেশের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছ’বার ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’ নিজের সংক্ষিপ্ত ভাষণ শেষ করে কক্ষত্যাগ করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ।
অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এদিন রাজ্যসভায় বলেন, ‘গোটা ভারতবর্ষ ঔপনিবেশিক হ্যাংওভার থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে চাইছে। অথচ শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে রাজ্যের বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গের নাম শুধুমাত্র বাংলা রাখার অপপ্রয়াস হয়েছে। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছে। রাজ্যের নাম শুধুমাত্র বাংলা রাখলে শহিদদের প্রতি অবমাননা করা হবে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের নাম শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি দিক।’ একইসঙ্গে বিহারের নাম পাল্টিয়ে পাটলিপুত্র এবং বখতিয়াপুর জংশনের নাম পরিবর্তনের আরজি জানান শমীকবাবু।