Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রেলারে চেপে হাওড়ায় ‘রাজরানি’, রাস্তার দু’ধারে উৎসাহী মানুষের ভিড়

পুজো আসতে এখনও ঢের দেরি। মহালয়ারই বাকি ১৩ দিন। অথচ রবিবার সকালেই যেন উৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে হাওড়ায় চলে এলেন ‘রাজরানি’।

ট্রেলারে চেপে হাওড়ায় ‘রাজরানি’, রাস্তার দু’ধারে উৎসাহী মানুষের ভিড়
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুজো আসতে এখনও ঢের দেরি। মহালয়ারই বাকি ১৩ দিন। অথচ রবিবার সকালেই যেন উৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে হাওড়ায় চলে এলেন ‘রাজরানি’। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে বিশাল ট্রেলারে চেপে বিদ্যাসাগর সেতু পেরিয়ে শহরে ঢুকতেই তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মাতল হাওড়া। কেউ গাড়ি থামিয়ে প্রণাম করলেন, কেউ মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দি করলেন সেই মুহূর্ত। কারও মুখে একটাই কথা, ‘আমাদের রাজরানি চলে এসেছেন!’

Advertisement

চ্যাটার্জিহাট সংগমের ২৫ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা শুধু একটি প্রতিমা নয়, যেন হাওড়াবাসীর আবেগের অংশ। সুউচ্চ এই সাবেকি প্রতিমা দেখতে প্রতি বছর হাওড়া তো বটেই, কলকাতা থেকেও ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। এবার ৫৭ বছরে পড়ল এই পুজো। থিমের চাকচিক্য নয়, সনাতনী মণ্ডপসজ্জা আর প্রতিমাই এখানকার ঐতিহ্য। এই প্রতিমাকে ভালোবেসে শহরবাসী দিয়েছেন ‘রাজরানি’ নাম। রবিবার ভোরে কুমোরটুলির পদ্মশ্রী মৃৎশিল্পী সনাতন রুদ্র পালের কারখানা থেকে বের হয় প্রতিমা। গত এক দশক ধরে তিনিই এই দেবীর কারিগর। পরিবার সহ দেবীকে নিয়ে ট্রলার যখন হাওড়ার দিকে এগয়, তখন বিদ্যাসাগর সেতু থেকে শুরু করে রাস্তার দু’ধারে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। হ্যাংস্যাং ক্রসিংয়ে পৌঁছালে ভিড় বাড়ে আরও। কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ব্যস্ত ক্রসিং পার হতে সময় লাগে বেশ কিছুটা। সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি-বাইকের আরোহীদের কেউ ছবি তোলেন, কেউ ভিডিয়ো করেন, কেউ আবার প্রণাম ঠুকে নেন। দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের বন্যা।
‘রাজরানি আসতেই এবার মনে হচ্ছে পুজো আসছে’, বলছিলেন বেলেপোল মোড়ের বাসিন্দা শিখা ভৌমিক। রাজর্ষি সরকারের কথায়, ‘সালকিয়ার বড়মা যেমন হাওড়াবাসীর আবেগ, তেমনই রাজরানি আমাদের অহংকার।’ ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিড় এড়িয়ে নির্বিঘ্নে প্রতিমা আনতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কলকাতা থেকে হাওড়ায় আসা এ মরশুমের প্রথম বড়ো দুর্গাপ্রতিমা এটি। পুজোমণ্ডপে আগামী ১০ দিন ধরে হবে দেবীর অলংকার ও বাকি সাজসজ্জার কাজ। ক্লাবের সভাপতি অরিন্দম পাত্র বলেন, ‘সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, একডালিয়া এভারগ্রিন, দেশপ্রিয় পার্ক কিংবা বাগবাজার সার্বজনীনের সুউচ্চ প্রতিমার সঙ্গে টেক্কা দেয় আমাদের রাজরানি। তাই কলকাতা থেকে অনেকেই তাঁকে দেখতে আসেন।’ অরিন্দমবাবুর কথায়, প্রতিমার নাম ক্লাব দেয়নি, দিয়েছেন হাওড়াবাসী। প্রতি বছর রাজরানি শহরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই হাওড়ার মানুষের মনে বেজে ওঠে পুজোর প্রথম ঢাক।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ