নয়াদিল্লি: সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক যোগ দিতে চীন যাচ্ছেন রাজনাথ সিং। চলতি মাসেই কিউইংডাও শহরে এই বৈঠক বসতে চলেছে। এজন্য ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বেজিং। সেইমতো পড়শি দেশে যাচ্ছেন রাজনাথ। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গলওয়ানে সংঘাতের পর এই প্রথম ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চীন সফরে যাচ্ছেন।
তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, অতীতের সংঘাত থেকে বেরিয়ে এসে দু’দেশই ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে আগ্রহী। এর আগে লাওসে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন রাজনাথ। বিভিন্ন স্তরে আরও বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু, আমেরিকার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধের আবহে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে চীন আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছরে উপলক্ষ্যেও সেই বার্তা দিয়েছে তারা। সেদিক থেকে দেখলে রাজনাথের এই সফর কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, গলওয়ান সংঘাতের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় সামরিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দিয়েছে ভারত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তাদের হাতে অতি-উচ্চতায় লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়েছে। রুক্ষ্ম পাহাড়ি এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, নজরদারি, ইউএভি ও পদাতিক বাহিনীর সামগ্রী তড়িঘড়ি কেনা হয়েছে। গলওয়ান কাণ্ডের পর পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। বিগত অর্থবর্ষের তুলনায় যা ৯.৫৩ শতাংশ বেশি। বরাদ্দ অর্থের মধ্যে ৭ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের (বিআরও) জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালেই ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তারা ৭৫টি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। জানা গিয়েছে, লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম ও হিমাচল প্রদেশে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাধিক স্থানে রাস্তা ও সেতু তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই উমলিং লা-তে (১৯ হাজার ২৪ ফুট) বিশ্বের উচ্চতম ‘মোটোরেবল রোড’ তৈরির নজির গড়েছে বিআরও। বর্তমানে নিয়োমা এয়ারফিল্ড ও সিন্কু লা টানেলের কাজ জোরকদমে চলছে। বিগত পাঁচবছরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। গলওয়ান, ডেমচকের মতো লাদাখের প্রত্যন্ত গ্রামেও ৪জি পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। ভারতীয় সেনার সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্প সম্পন্ন করেছে ভারতী এয়ারটেল। এর ফলে টেলিমেডিসিন, শিক্ষায় ডিজিটালাইজেশন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে। সেইসঙ্গে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জয়েন্ট ওয়ারফেয়ার স্টাডিজের ডিরেক্টর জেনারেল মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অশোক কুমারের মতে, গলওয়ান টার্নিং পয়েন্ট। এলএসি বরাবার ভারতকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।