নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: একটানা প্রায় দু’বছর ধরে বিকল রাজনগর গ্রামীণ হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন। তার জেরে হাসপাতালে গিয়েও পরিষেবা না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে রোগী সহ পরিবারের সদস্যদের। ফলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জেরে দু’বছর কেটে গেলেও নতুন করে এক্স-রে পরিষেবা চালু হল না। ঘটনায় রাজনগর ব্লকের বাসিন্দারা রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীদের সমস্যা লাঘবে প্রতিমাসে একদিন করে ভ্রাম্যমাণ এক্স-রে মেশিনের সাহায্যে পরিষেবা দেওয়া হয়। এবিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভব্রত ঘোষ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করছি শীঘ্রই নিয়মিত এক্স-রে পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে।
রাজনগর গ্রামীণ হাসপাতালে প্রতিদিন বহু রোগীদের আনাগোনা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসার প্রয়োজনে আসেন। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে অনেকেরই এক্স-রে করানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে প্রায় আড়াই বছর আগে এই হাসপাতালে এক্স-রে পরিষেবা চালু করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, সেসময় একটি পুরনো মেশিনের সাহায্যে পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। কিছুদিনেই পুরনো মেশিনটি অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়। মাত্র মাস ছ’য়ের মধ্যেই এক্স-রে পরিষেবা একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর থেকেই এক্স-রে পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবশ্য উদ্যোগী হয়। তড়িঘড়ি বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের নজরে আনা হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। তবে, রোগীদের স্বার্থে বর্তমান সময়ে প্রতি মাসে একদিন ভ্রাম্যমাণ এক্স-রে মেশিন ব্লক হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছয়। ওই ভ্রাম্যমাণ মেশিনের সাহায্যেই রোগীদের এক্স-রে করা হয়। যদিও জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ছুটে যেতে হয়। ফলত রোগীর পরিবারের সদস্যদের যথেষ্টই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ব্লক হাসপাতালে পুনরায় এক্স-রে পরিষেবা চালু করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত মাল তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে ব্লক হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু এখানে এক্স-রে পরিষেবা অমিল। বিশেষ প্রয়োজনে আমাদের সিউড়িতে ছুটে যেতে হয়। অনেক সময় রোগীদের এত দূরের রাস্তা নিয়ে যাওয়া অনেকটাই কষ্টকর হয়ে ওঠে। আর এক বাসিন্দা শেখ ফকির হোসেন তাঁর ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, শুনেছি এই হাসপাতালে মাসে একদিন এক্স-রে পরিষেবা পাওয়া যায়। বাকি ২৯দিন পরিষেবা অমিল। আর কোনও হাসপাতালে এমন হয় বলে জানা নেই। রোগীদের স্বার্থে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।