নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ১৭৯৯ সালে জয়পুরের কাচওয়াহার শাসক মহারাজা সওয়াই প্রতাপ সিংয়ের আমলে তৈরি হয়েছিল বিখ্যাত ‘হাওয়া মহল’। কথিত আছে, তিনি শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত ছিলেন। সেই কারণেই তিনি এই প্রাসাদটিকে কৃষ্ণের মুকুটের রূপ দিয়েছিলেন। বর্তমানে এই পাঁচতলা প্রাসাদটি রাজস্থানের জয়পুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। এবার বাবুলবোনা সর্বজনীনের দৌলতে বহরমপুরে বসেই এই হওয়া মহল দর্শন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। আর এই থিম ভাবনাতেই ৬৭তম বর্ষে তাক লাগাতে চলেছে এই পুজো কমিটি। অবিকল হওয়ামহলের মতো দেখতে এই মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে বহরমপুরের পুরনো জাতীয় সড়কের পাশে। বাবুলবোনার এই পুজো দেখতে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ ভিড় জমান। এবারও তার অন্যথা হবে না বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।
উল্লেখ্য, রাজস্থানের জয়পুরে গ্রীষ্মকালে হাওয়া মহল ছিল রাজপুতদের বিশ্রামের স্থান। এই ভবনটি এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে, যাতে এর মধ্যে হাওয়া খেলতে পারে খুব সহজে। গরমকালে যাতে আরাম অনুভূত হয়, সেইভাবেই বানানো হয়েছিল এই মহল। বাবুলবোনার পুজোর মণ্ডপেও সেই একই হওয়ার অনুভব করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। অভিনব পুজোর আয়োজন করে রীতিমতো চমক দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
এই পুজোর উদ্যোক্তা মিঠু জৈন বলেন, প্রতিবছর আমরা চেষ্টা করি, নতুন কিছু দেখানোর। তাই এবার জয়পুরের হাওয়া মহল গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি খুবই জনপ্রিয়। পর্যটকরা রাজস্থানে গেলে অবশ্যই হাওয়া মহল দেখতে যান। গত তিনমাস ধরে এটা তৈরির কাজ চলছে। চতুর্থী থেকে এটা দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে এই মণ্ডপে এসে পুজো দেখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতি বছরই নতুন কিছু করে তোলার চেষ্টা করা হয়। তাই এবার এই থিম বাছা হয়েছে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে এত ভালো ভালো পর্যটন কেন্দ্র আছে, সব জায়গা সকলের পক্ষে দেখে ওঠা সম্ভব না। তাই সাধারণ মানুষ যাতে নতুন নতুন জায়গার স্বাদ পান, সেই চেষ্টা আমরা করি। আমাদের মণ্ডপ নির্মাণে বাঁশ, রঙ, বাটাম, কাপড় ও কাচের ব্যবহার করা হচ্ছে। এবছর বাজেট ২৫ লক্ষ টাকার বেশি। দেবীকে পুঁতি দিয়ে সাজানো হবে। সাবেকি প্রতিমার সাজসজ্জা দর্শকদের মন কাড়বে। - নিজস্ব চিত্র