Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজাভাতখাওয়ার পানিঝোরা ‘বইগ্রামের’ আদলে এবার এডুকেশন হাব গরমবস্তিতে

রাজাভাতখাওয়ার পানিঝোরা ‘বইগ্রামের’ আদলে এবার এডুকেশন হাব গরমবস্তিতে
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: কালচিনির রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গরমবস্তিতে গারো ও অসুর সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। সেই গরমবস্তিতে গড়ে উঠছে এডুকেশন হাব। রাজ্যের প্রথম ‘বইগ্রাম’ রাজাভাতখাওয়ার পানিঝোরা গ্রাম। এবার বইগ্রাম পানিঝোরার আদলে গড়ে উঠছে অসুর ও গারো জনগোষ্ঠীর গ্রাম গরমবস্তি। 

Advertisement

আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের উৎসাহে গরমবস্তিতে এডুকেশন হাব গড়ে তোলার কাজ করছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বইগ্রাম পানিঝোরার আদলে গরমবস্তির ঘরে ঘরে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা হবে। সেই কাজে সহায়তা করতে গরমবস্তিতে একটি লাইব্রেরি তৈরির কাজও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। 
লাইব্রেরির জন্য প্রতীকা মারাক নামে স্থানীয় এক শিক্ষা দরদি মহিলা তাঁর একটি দোকানঘর দান করে দিয়েছেন। সেই দোকানই এখন লাইব্রেরি হিসেবে গড়ে উঠছে। প্রতীকাদেবীর এমএ পাশ মেয়ে ঝুনু মারাক বলেন, আমরা চাই বইগ্রাম পানিঝোরার মতো আমাদের গ্রামও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক। তারজন্যই আমাদের দোকানটি লাইব্রেরি বানাতে দান করে দিয়েছি। 
লাইব্রেরি বা ঘরে ঘরে শুধু বইপড়ার আগ্রহ তৈরি করাই নয়, গরমবস্তির পড়ুয়াদের নিঃশুল্ক কোচিং দেবে উদ্যোক্তা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। অনলাইনে নিঃশুল্ক কোচিংও দেবে তারা। শুধু তাই নয়, গরমবস্তির পড়ুয়াদের সর্বভারতীয় চাকরির পরীক্ষায় প্রস্তুতির জন্যও কোচিং দেবে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। অনগ্রসরশ্রেণির জনগোষ্ঠীর পড়ুয়াদের সুবিধার্থে লাইব্রেরিতে চাকরির বইপত্রও রাখা হবে। 
বঙ্গরত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত জেলার লোকসংস্কৃতি গবেষক প্রমোদ নাথ বলেন, চা বাগান, বনবস্তি পঞ্চায়েতে যুক্ত হয়েছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীগুলিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। 
বইগ্রাম পানিঝোরার ঘরে ঘরে বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে জনগোষ্ঠীগুলির বাসিন্দাদের নিজস্ব লোকায়ত সংস্কৃতির চর্চার জন্য গড়ে উঠেছে মুক্তমঞ্চ। মহিলাদের নানান ধরনের হাতের কাজের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। বইগ্রাম পানিঝোরার বিভিন্ন বাড়ির নাম দেওয়া হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাসের নামে। 
এবার একই আদলে গড়ে উঠবে গরমবস্তিও। মিশন আলোকবর্তিকার কো-অর্ডিনেটর রাহুল দাস বলেন, পানিঝোরার পাশাপাশি আশপাশের আরও পাঁচটি গ্রামকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। দ্বিতীয় গ্রাম হিসেবে এবার গরমবস্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আপনকথার সম্পাদক পার্থ সাহা বলেন, বই ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক জেলার জনজাতি গোষ্ঠীর গ্রামগুলি। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ