সোহম কর , কলকাতা:
সোহম কর , কলকাতা:
ব্যান্ডেল লোকাল দাঁড়িয়ে রয়েছে হাওড়া স্টেশনে। তার ঠিক পাশেই বর্ধমান লোকাল। কিন্তু ছাড়তে অনেক দেরি। তাই তড়িঘড়ি ব্যান্ডেলই ধরতে হবে। পুজোয় পরা নতুন জামা গায়ে শহরবাসী চলেছে জগদ্ধাত্রী ঠাকুর দেখতে। আর জগদ্ধাত্রী ঠাকুর মানেই চন্দননগর। হিসেব মতো দিনটি পঞ্চমী হলেও কলকাতাবাসী আর অপেক্ষা করতে চায় না। তার উপর আবার রবিবার পড়েছে। ছুটির দিন। তার উপর আবার চেপেছে আতঙ্ক। রয়েছে ‘পুজোয় বৃষ্টি’র ভ্রূকুটি। তাই বৃষ্টি আসার আগেই দেখে নিতে হবে। ‘আজকে পঞ্চমী না ষষ্ঠী? কে জানে গুলিয়ে গেল। আবার তো কলকাতায় ফিরতে হবে। আকাশটাও তো কেমন মেঘলা করে উঠছে। তাই দুপুর দুপুরই বেরলাম’, বলে এক তরুণী দৌড়লেন ট্রেন ধরতে। ওদিকে তাঁর বন্ধুরা কিছুটা এগিয়ে গিয়েছেন। প্ল্যাটফর্মে বসে এক অবাঙালি আরপিএফ কর্মী তখন বলছেন, ‘রবিবার এত ভিড় কিঁউ?’ ট্রেনের পিছনে দৌড়তে থাকা এক ব্যক্তি সেই উত্তরও দিয়ে গেলেন-‘জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু, স্যার।’
স্মার্টফোনে চোখ রেখেছেন তরুণ-তরুণীরা। সেখান থেকে খুঁটিয়ে দেখে নিচ্ছেন, কোন ট্রেন কখন পৌঁছবে চন্দননগর। আবার ফেরার ট্রেন কখন ধরতে হবে সেটাও দেখে নেওয়া। দমদমের বাসিন্দা স্বর্ণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক তরুণ বললেন, ‘সত্যি কথা বলতে, চন্দননগরের কিচ্ছুই তো চিনি না। বন্ধুরা মিলে ঠিক করেছিলাম এই বছর চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী ঠাকুর দেখতে যাব। সেই মতোই যাচ্ছি। দেখা যাক!’ আবার বেশ কয়েকজনকে দেখা গেল একেবারে ক্যামেরার সরঞ্জাম নিয়ে ট্রেনে উঠলেন। যাওয়ার সময় বললেন, ‘ছবি তুলব অনেক।’ তবে শুধুই যে তরুণ-তরুণীর ভিড় এমনটা নয়, কোলে খুদে মেয়েকে নিয়ে বাবা-মাকেও চন্দননগরমুখী হতে দেখা গেল। ট্রেনে উঠে বরানগরের বাসিন্দা সেই ব্যক্তি বললেন, ‘আজ তো রবিবার। ছুটির দিন। এই তো এ বছরের মতো উত্সব শেষ হয়ে গেল। এবার জগদ্ধাত্রী ঠাকুর দেখে আসি। প্রতিবছরই যাই। রবিবার বলে ভালো হয়েছে।’ আর যদি ট্রেনের মধ্যে চন্দননগরের কাউকে পাওয়া যায় তাহলে আর কথাই নেই। ঠাকুর দেখতে যাওয়ার দলবল দেখলে তাঁরাই রুট ম্যাপ বলে দিচ্ছেন। গাইড করে দিচ্ছেন।
হাওড়া স্টেশনে যখন চন্দননগরে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার ভিড় শিয়ালদহ স্টেশনের চিত্রটা তখন একটু আলাদা। এখানে দক্ষিণ শাখার বাইরে ঢাকিরা বসে রয়েছেন। ঢাক বাজাচ্ছেন বায়না পাবার আশায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা স্বরূপ শিকারি বললেন, ‘এমনিতে তো সারাবছর চাষাবাদের কাজ করি। পুজোর সময় বেহালাতে বায়না পেয়েছিলাম। এবার কোথায় পাওয়া যায় দেখি।’ ওঁরা ছট পুজোর জন্য একবেলা ফাঁকা সময় রেখেছেন। ছটে ডাক পেলে ঢাক বাজিয়ে তারপর যাবেন জগদ্ধাত্রী পুজোর মণ্ডপে ঢাক বাজাতে।