Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রাক্‌বর্ষা মরশুমে সারা রাজ্যেই বৃষ্টি স্বাভাবিকের বেশি

মে মাসের বেশ কিছুদিন রাজ্যের একটা বড়ো অংশে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি কম হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ১ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রাক্‌বর্ষা মরশুমে কলকাতাসহ রাজ্যের সব জেলাতেই  স্বাভাবিকের ঩চেয়ে অনেকটা বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

প্রাক্‌বর্ষা মরশুমে সারা রাজ্যেই বৃষ্টি স্বাভাবিকের বেশি
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মে মাসের বেশ কিছুদিন রাজ্যের একটা বড়ো অংশে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি কম হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ১ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রাক্‌বর্ষা মরশুমে কলকাতাসহ রাজ্যের সব জেলাতেই  স্বাভাবিকের ঩চেয়ে অনেকটা বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এইসময়ে রাজ্যে সার্বিকভাবে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৭৯.৬ মিমি, যা স্বাভাবিক বৃষ্টির তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। আলিপুরদুয়ার জেলায় সবচেয়ে বেশি ৯৩৮ মিমি (৬৩ শতাংশ বেশি) বৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যে নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ ছাড়া সব জেলাতেই ২৫০ মিমির বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ওই দুটি জেলাতেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৫০ কাছাকাছি। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি (৩৬৮ মিমি বা ৯২ শতাংশ বেশি) হয়েছে হাওড়ায়। কলকাতায় হয়েছে ৩১৯ মিমি (৪০ শতাংশ বেশি)। 

Advertisement

গোটা দেশের নিরিখে এবার প্রাক্‌বর্ষার বৃষ্টি ভালো হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর ১ মার্চ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত দেশে বৃষ্টির পরিসংখ্যান দিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সার্বিকভাবে দেশে এইসময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। মধ্য ভারতে ১১ শতাংশ, উত্তর-পূর্ব ভারতে ৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ ভারতে ১ শতাংশ বৃষ্টি বেশি হয়েছে। শুধু উত্তর-পশ্চিম ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের একাংশে এবার মে মাসে বড়ো সময় জুড়ে তাপপ্রবাহ চলে। এই কারণে সেখানে মে মাসে বৃষ্টিপাত কম হয়। তা সত্ত্বেও সার্বিক ঘাটতি খুব বেশি  হয়নি।
প্রাক্‌বর্ষা মরশুমে এই বৃষ্টি চাষবাস এবং ভূগর্ভস্থ জলসঞ্চয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে যেখানে এল নিনোর প্রভাবে এবার দেশে বর্ষার বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কম হওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া দপ্তর। দেশে খরিফ মরশুমে ধান, ভুট্টা, ডালসহ বিভিন্ন ফসল বর্ষার বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। দেশের একটা বড়ো অংশে রবি ও বোরো ফসলের চাষ অনেকটাই সেচনির্ভর। তবে এবার বৃষ্টি বেশি হওয়ায় সেখানে থেকে চাষের প্রয়োজনীয় জল অধিক মাত্রায় মিলেছে। এতে চাষের খরচ কমবে ও ভূগর্ভস্থ জলের সংরক্ষণ হবে। রবি ও বোরো মরশুমে গম, ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের তৈলবীজ ও ডাল গুরুত্বপূর্ণ ফসল। গম ও তৈলবীজ  শুধু রবি মরশুমে হয়।
উত্তর-পশ্চিম ভারতসহ দেশের আরো কিছু অংশে বেশি বৃষ্টি হওয়ার কারণ পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। শীতকাল থেকে ভূমধ্যসাগর এলাকায় সৃষ্ট নিম্নচাপগুলি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হিসেবে কাশ্মীর হয়ে এদেশে ঢোকে। শীতকালের পরেও ঝঞ্ঝা আসতে থাকে। এবার তার সংখ্যা বেশি ছিল। ঝঞ্ঝার প্রভাবে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ঝঞ্ঝার পরোক্ষ প্রভাবে এরাজ্যে বৃষ্টি কিছুটা বেড়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এরাজ্যে বেশি বৃষ্টির কারণ বেশি সংখ্যক নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়া। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করার কারণে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে রাজ্যের সব জেলাতেই প্রাক্‌বর্ষা মরশুমে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ