নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এল নিনোর প্রভাবে এবার বর্ষাকালে গোটা দেশেই বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। ইতিমধ্যে এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গ এর ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু বর্ষার আগে, দু-তিনমাস যাবৎ রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি। ঘন ঘন নিম্নচাপ অক্ষরেখা, ঘূর্ণাবর্ত প্রভৃতি তৈরি হওয়ার ফলে এটা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে রাজ্যজুড়ে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির প্রবণতা এবার অনেকটাই বেশি। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, তার ফলে ১ মার্চ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৭৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৭৭ মিলিমিটার (মিমি)। রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলায়। এর পরিমাণ ৭৩৬ মিমি। দক্ষিণবঙ্গে হাওড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩৩৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের সব জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি বৃষ্টি পেয়েছে। কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ২৭৭ মিমি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৭ শতাংশ বেশি। কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ১০০ শতাংশেরও বেশি!
বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প প্রবেশের ফলে রাজ্যজুড়ে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টি এখনো চলছে। তবে শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ বেশি সৃষ্টি হচ্ছে উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে পাহাড় ও লাগোয়া এলাকার জেলাগুলিতে। দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি কমে যাওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার চেয়ে সামান্য কমবেশি থাকলেও ভ্যাপসা গরমের জন্য বেশ কষ্ট অনুভূত হচ্ছে। তার কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের অধিক মাত্রা। কলকাতায় রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা এইসময়ের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। কিন্তু আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে গরমের কষ্ট হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে কলাইকুন্ডায় এদিন সর্বাধিক তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৯ ডিগ্ৰি সেলসিয়াস। আবহাওয়া আবহাওয়া দপ্তর অবশ্য এখনো দক্ষিণবঙ্গে কোথাও তাপপ্রবাহ বা অস্বস্তিকর গরম পড়ার কোনো পূর্বাভাস দেয়নি। ঝড়বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধি হলেই দক্ষিণবঙ্গে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলবে বলেই আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা।



