Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বৃষ্টির ঘাটতি: ‘সবুজ’ অঞ্চলেই বাংলা

জুলাইয়ের মাঝামাঝি বৃষ্টির ঘাটতি ২০% ছাড়িয়েছে। কৃষিমন্ত্রক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খরিফ ফসলের উপর। বিস্তারিত পড়ুন।

বৃষ্টির ঘাটতি: ‘সবুজ’ অঞ্চলেই বাংলা
  • ১৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জুলাইয়ের অর্ধেক পেরোনোর পরেও কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের বৃষ্টির মানচিত্রে দেশের বেশিরভাগ অংশ ‘লাল’ রঙে চিহ্নিত! সেখানে দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় বর্ষাকালীন বৃষ্টির ঘাটতি এখনো ২০ শতাংশ বা তার বেশি। আগামী দিনে বৃষ্টিপাত নিয়ে আশঙ্কার কথাই বলছে তারা। এরই মধ্যে দেশের যেটুকু অংশ ‘সবুজ’ চিহ্নিত (যেখানে ঘাটতি নেই) তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে গড়ের তুলনায় ৫ শতাংশ কম এবং উত্তরবঙ্গে ৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ১৯ শতাংশের মধ্যে ঘাটতিকে ‘স্বাভাবিক’ ধরা হয়। কিন্তু এবারের সার্বিক পরিস্থিতি দেশে খরিফ ফসলের পক্ষে আশঙ্কাজনক। কৃষিমন্ত্রক বলছে, ধান, ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ প্রভৃতি খরিফ ফসলের চাষ এখনো স্বাভাবিকের নীচে। রাজ্যের মধ্যে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, বীরভূম, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি আছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রামের ঘাটতি কমে ২০ শতাংশ হয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে তা ৩০-৪০ শতাংশ। এখনো পর্যন্ত  দেশে শুধু পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পূর্ব রাজস্থান এবং মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশে বৃষ্টির ঘাটতি নেই। জুন থেকে এপর্যন্ত দেশে ২৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। আঞ্চলিক ভিত্তিতে মধ্য ভারতে ঘাটতি সর্বনিম্ন ১৩ শতাংশ। জুনে মধ্য ভারতে ঘাটতি ছিল সর্বাধিক। কিন্তু জুলাইয়ের প্রথমে নিম্নচাপের দরুন ব্যাপক বৃষ্টিপাত মধ্য ভারতের ঘাটতি কমিয়েছে।

Advertisement

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এবারের নিম্নচাপটিও দক্ষিণবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড হয়ে মধ্য ভারতের দিকে যাচ্ছে। এটির প্রভাবে ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশে বেশি বৃষ্টি হলেও এটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন উত্তরপ্রদেশ, বিহার, হিমালয় লাগোয়া উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিম হিমালয় এলাকায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এল নিনোর কারণে এবার বর্ষার বৃষ্টির স্বল্পতার দুঃসংবাদ আবহাওয়া দপ্তর অনেক আগেই জানিয়েছিল। তারা এখনো বলছে, বর্ষা মরশুমের বাকি সময়ে এল নিনো আরও সক্রিয় হবে। ভারত মহাসাগরের ‘ডাইপোল’ (দুই প্রান্তের জলের উষ্ণতার পার্থক্য) পরিস্থিতি ‘পজিটিভ’ থাকায় অতীতে একাধিকবার দেশে এল নিনোর প্রভাব কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। কিন্তু এবার বর্ষাকালে ডাইপোল ‘নিউট্রাল’ থাকবে। মনে করছে হাওয়া অফিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ