নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে। কিন্তু ভোগান্তি কমেনি মানুষের। দিনভর ঝিরঝিরে বৃষ্টির ফলে শহরজুড়ে প্যাচপেচে কাদা। শহরতলির কিছু জায়গা থেকে এখনও জল নামেনি। সকালে অফিস কিংবা স্কুলে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ছাত্রছাত্রী সহ অন্যান্য মানুষকে। বেলার দিকে কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্ভোগ।
বুধবারও যানজটের কবল থেকে মুক্ত হতে পারেনি শহর। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে সবাইকে। সকালে স্কুলে বেরনোর সময় পড়ুয়াদের এদিনও ভিজতে হয়। ছুটির পর ফেরার পথেও একই ভোগান্তি। দক্ষিণ কলকাতার এক স্কুলে ছেলেকে পৌঁছে দিয়ে মা বললেন, ‘সারাটা রাস্তা কাদায় প্যাচপ্যাচ করছে। একদিনেই নোংরা হয়ে যাচ্ছে জামাকাপড়। কবে যে বৃষ্টি থামবে কে জানে।’ অফিসযাত্রীরা সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তীব্র যানজটের মুখে পড়েছেন। দুপুরেও বহু রাস্তায় জ্যাম। সন্ধ্যার দিকে মল্লিকবাজার, পার্ক সার্কাস এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হওয়ায় নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। মল্লিকবাজারে এক অটোচালক বলেন, ‘একটা ট্রিপ করতেই এক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। বৃষ্টি পড়লেই আটকে যায় রাস্তা।’ দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় এদিন সন্ধ্যার দিকে যানজটের কবলে পড়তে হয় অফিস ফেরত যাত্রীদের। এক্সাইড মোড়ে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘প্রতিদিনই বৃষ্টিতে ভিজছি। এবার মনে হয় সর্দি-কাশি হবে। একনাগাড়ে ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টিতে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ তবে টিপটিপ বৃষ্টিতে মজা পাচ্ছে শিশুরা। স্কুল যাওয়ার পথে এক শিশু বলে, ‘বৃষ্টি পড়লে ফুটবল খেলতে তো মজা লাগে।’
লাগাতার বৃষ্টির ফলে সবথেকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বাইকচালকদের। খাবার ডেলিভারি সংস্থার কর্মী কিংবা বাইক ট্যাক্সি চালকদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। এক বাইক ট্যাক্সি চালকের কথায়, ‘মাঝে মধ্যে বৃষ্টি কমলে তবে যাত্রী পাচ্ছি। কিন্তু মাঝপথে বৃষ্টি যখন বাড়ছে তখন দাঁড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। ফলে লাভ খুব একটা হচ্ছে না।’ খাবার ডেলিভারি করতে গিয়েও মুশকিলে পড়তে হচ্ছে সরবরাহ কর্মীদের। এক ডেলিভারি বয় বলেন, ‘সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করতে হচ্ছে। একবার শরীর খারাপে পড়ে গেলে বাড়ি বসে থাকতে হবে। খুব খারাপ অবস্থা।’ ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টির মধ্যে ভেজা ছাতা হাতে নিয়ে মানুষের প্রশ্ন, ‘এই বৃষ্টি কবে থামবে?’ এদিকে আবহাওয়া দপ্তর এখনই কোনও আশার খবর শোনাচ্ছে না। আজ, বৃহস্পতিবারও কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।