শ্যামল চক্রবর্তী
‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে মেঘমাশ্লিষ্টসানুং’ বলতে বলতে রোমাঞ্চকর ইলশেগুড়ি বর্ষণ উপভোগ করছিলেন কচিবাবু। মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালে তিতিবিরক্ত তাপকাতর গিন্নি আগেই পাড়ি দিয়েছেন শিলিগুড়িতে বোনের বাড়ি। শ্যালিকা জামাইবাবুকে যেতে বলতেই কবিরাজি পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছেন জাম্বু। বগলে গোটা একটা রসুন চেপে, কম্বলমুড়ি দিয়ে, ‘জ্বর এসেছে,জ্বর, মনে হয় করোনা’ বলতে বলতে খুকখুক করে কাশতে শুরু করেছেন কচিগোপাল! এক ঢিলে দুই পাখি। প্রবাসী ছেলেকে দিয়ে সেদিনই রাতের দার্জিলিং মেলে তৎকাল প্রিমিয়াম টিকিট বুক করে পালিয়েছেন কোভিডভীত কচিগিন্নি
সরমা। গিন্নির পলায়নে ‘জয় মা কালী’ বলে ঘামতে ঘামতে কম্বলের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে প্রথমেই ‘খাওগি’তে ফোন করে
বিরিয়ানি আর কষা মাটন। শেষপাতে জলরাম মল্লিকের রসমালাই। নিকুচি করেছে ডায়াবেটিসের! কোলেস্টেরল রেড অ্যালার্ট দিচ্ছে তো বয়েই গিয়েছে! পাখির আহারে বিধ্বস্ত কচিগোপাল মনের সুখে নিয়ম ভাঙতে ভাঙতে অপেক্ষা করছিলেন বর্ষার। তিনি আসতেই ‘হারে রে রে রে রে আমায় ছেড়ে দেরে দেরে’ গাইতে গাইতে ‘বনের পাখি’ হয়ে নাচতে শুরু করেছেন!
ক’দিন বাদে আষাঢ়েই ‘থৈথৈ শাওন এলো ওই’! শুকনো গাঙে বান এসেছে কচিবাবুর। দুপুরে ‘বাহিরি’ থেকে ভুনা খিচুড়ি আর ডাবল ডিমের ওমলেট, সঙ্গে মুচমুচে বেগুন ভাজা! লাঞ্চ সেরে সোফায় বসে কাচের দরজা দিয়ে প্রবল বর্ষণ দেখতে দেখতে ডাউন মেমারি লেন ধরে ছেলেবেলায় ফিরে গিয়েছেন। রেইনি ডে। মহানন্দপুর গ্রামের সব পুকুর েগিয়েছে ভেসে। একটা পিরিয়ড হয়েই ইস্কুল ছুটি। জামা খুলে ঝাঁকের কই ধরতে ধরতে বাড়ি ফিরছে ‘শিরে কচুপাতা’ শৈশব। গ্রামের রাস্তায় জল ক্রমাগত বাড়ছে। খোকন হঠাৎ এক ধাক্কায় কচিকে ফেলে দিয়ে নিজেও ঝাঁপ দিচ্ছে জলে। প্রায় সাঁতার কাটতে কাটতে বাড়ির দিকে এগোচ্ছে দুই বর্ষাবালক। ঘোর ভেঙে গেল ডোরবেলের পাখির ডাকে!
‘সব্বোনাশ, গিন্নি ফিরলেন’, কাঁপতে কাঁপতে দরজার জাদুআয়নায় চোখ রাখলেন কচিবাবু! বর্ষাই ভরসা। এমন তুমুল বৃষ্টিতে ভেজার মানুষ সাইনুসাইটিসের রোগী সরমা নন। আয়নায় এক বৃদ্ধের মুখ দেখে দরজা খুলতেই ঘরের ভেতর ঢুকে এলেন আদ্দিকালের ছাতা বগলে এক বৃদ্ধ।
— ‘কে আপনি?’
— ‘আঁজ্ঞে, আমি কালিদাস ঘটক...।’
— ‘ঘটক! কাকে চাইছেন আপনি?’ গলা চড়ছে কচিবাবুর।
—‘এত উত্তেজিত হবেন না স্যার। প্রেসার বেড়ে যাবে। খোঁজখবর না নিয়ে কালি ঘটক কারো বাড়ি আসে না। বিরহজ্বালায় কাতর একজন নারী আছেন আমার পাশের গ্রাম মহানন্দতে । উনিই আমাকে পাঠিয়েছেন আপনার কাছে...।’ প্লাস্টিকের মোড়ক খুলে একটা ছবি বার করে কচিগোপালকে দেখাচ্ছেন কালি ঘটক... ‘আরে! এ যে অপু... সেন বাড়ির অপর্ণা... বাঁচাও বাঁচাও’ বলতে বলতে ঘুম ভেঙে গেল ঝিমাতে ঝিমাতে সোফা কাম বেডে ঘুমিয়ে পড়া কচিগোপালের।
ঢক ঢক করে এক গ্লাস জল খেয়ে নিলেন। এখনও স্বপ্নের ঘোরে রয়েছেন। কিচেনে গিয়ে এক কাপ কালো কফি নিয়ে এসে চুমুক দিতেই মাথাটা একটু একটু করে খুলছে। বাইরে বৃষ্টিটা একটু ধরেছে। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। বিকেল পাঁচটাতেই রাত। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ঘরের আলোটা জ্বেলে লুকিয়ে রাখা সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট নিয়ে ধরালেন কচিবাবু। সেন্টার টেবিল থেকে ফোনটা টেনে নিলেন। এ কী! ফোনটা অচল কেন! মনে পড়ল, দু’দিন ধরে একই জায়গায় পড়ে থাকা ফোনটাকে চার্জ দিতে ভুলে গেছেন। ঘর থেকে চার্জার নিয়ে এসে চার্জে বসালেন ফোনটাকে।
দুপুরের খিচুড়ি আর ওমলেট বদহজম হয়ে দুঃস্বপ্ন দেখেছেন কচিবাবু। মনে পড়ে গেল হঠাৎ করে, পাশের ঘরে রাখা নতুন কেনা ফোনটাতে খাবার অর্ডার করেই সাইলেন্ট মোডে রেখে একটানা চার্জ দিয়েছেন গত কয়েকদিন। আজ দুপুরেও খিচুড়ি আনিয়েছেন ওই ফোনটা থেকে। দৌড়ে ফোনটা এনে সোফায় বসে সাউন্ড অন করে দিলেন। সতেরোটা মিসড কল! পনেরোটাই এসেছে শিলিগুড়ির শ্যালিকা পারুর কাছ থেকে। বর্ষার গাড্ডায় পড়ে গেছেন বুঝতে পারছেন কচিবাবু। ঝমঝম করে বৃষ্টি নামলো আবার , বেজে উঠল ফোনটা।
— ‘কি জামাইবাবু, বেঁচে আছেন! আমি আর প্রণব ভাবছিলাম, আপনি দিদির বিরহে কী না কী কাণ্ড করে বসে আছেন!’ পরমা হাসছে খিলখিল করে। পিছন থেকে ভেসে আসছে সরমার গর্জন, ‘পারু আমাকে ফোনটা দে!’
— ‘ভেবেছ কী তুমি! চিন্তায় আমার মরে যাওয়ার দশা। ফোন ধরোনি কেন? উত্তর দাও...’ গলার ভলিউম বাড়ছে পরমার।
— ‘আসলে... আসলে... বর্ষায় কাবু হয়ে গিয়েছি’, মিনমিন করছেন কচিগোপাল পাল।
— ‘কাবু হবে না কেন! এখনও যে পটোল তোলোনি, আমার সাত পুরুষের ভাগ্য...! বিরিয়ানি, খাসি, মুড়িঘণ্ট, তন্দুরি, নান, অমলেট, ভাজাভুজি ... প্রাণভরে মিষ্টি আর ল্যাংড়া আম..., জানি না ভেবেছ?’ হাঁপাচ্ছেন সরমা।
— ‘বিশ্বাস করো সুরু, একদিন একটু মুখ বদলাতে..’
— ‘শ্যামাকে রান্না করে দিতে হবে না বলেছ। দারোয়ান কার্তিককে হাতে টাকা গুঁজে দিয়ে কিনে নিয়েছ...’
— ‘দিদিকে জোর করে শুতে পাঠিয়ে দিলাম। উত্তরবঙ্গের বর্ষা তো এখন আপনাদের শহরে। শিলিগুড়িতে চিড়বিড়ে গরম... দিদি আজ রাতেই আমার পতিদেবতাকে বলে ট্রেনে চাপতে চাইছিল... বর্ষা প্রেম বাড়ায় জানতাম, এখন দেখছি বিরহের জ্বালাও বাড়ে ভরা বর্ষায়!’
— ‘পারু, একটা কাজ করো। তুমি আর তোমার দিদি প্রণবকে সঙ্গে নিয়ে এখানে চলে এসো। প্রণবকে মনে করে সঙ্গে আনবে। ভালো ইলিশ উঠছে বাজারে।’
— ‘আহা! জিভে জল চলে আসছে জাম্বু। রান্নার মেয়েটাকে ফোন করে ডেকে নিন। রাতে শুধু স্যুপ খাবেন। দেখছি কবে তিনজন একসঙ্গে যাওয়া যায়।’ ফোনটা কেটে দিলেন শ্যালিকা। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে বাইরে। কার্তিক, শ্যামা, সাত নম্বরের মিসেস বাসু ... মনে মনে গুপ্তচরের তালিকা তৈরি করছেন বর্ষায় ভেসে যাওয়া কচিবাবু। টিভি অন করে দেখছেন শহরের হালচাল... অনেক রাস্তায় এক হাঁটু জল... বিশাল গাড্ডায় পড়ে হাত-পা ভেঙেছে এক তরুণের... বস্তিগুলোতে ফ্লাড শেল্টার তৈরি করে রাখা হচ্ছে। বর্ষা ভরসা জোগায় , কান্না হাসির দোলায় ডুবিয়ে ভাসায়।
***
বর্ষা মানেই ছাতা। মাথা বাঁচানোর ছাতা। ব্যাঙের ছাতা মাশরুম। বর্ষা মানে আড্ডা। মুড়ির সঙ্গে মুচমুচে তেলেভাজা। জলে ভিজে পায়ে হাজা। বর্ষা মানে চুলকানি। বৃষ্টিতে ভিজে নাকানি চোবানি। বর্ষা শুধু ইলিশের মরশুম নয়, মরশুম সেকেন্ড হ্যান্ড ছাতার। বর্ষা মানে এঁদো গলি। বর্ষা মানে বর্ষাতি। বর্ষা মানে রবীন্দ্রগান। শুনতে শুনতে চা-কফি পান। বর্ষা মানেই সত্যজিৎ। অপু দুর্গার গাছের তলায় বসে আশরীর ভেজা। অপুর মাথায় কাপড় ঢাকা দিয়ে দুর্গার ছড়া কাটা। ‘লেবুপাতায় করমচা, যা বৃষ্টি ধরে যা’। বর্ষা মানে দমকা হাওয়া। টোকা মাথায় মাঠে যাওয়া। বর্ষা মানেই খুনসুটি। সঙ্গে ভাজা সরপুঁটি।
সত্যজিতের ‘সমাপ্তি’তে কনে দেখতে গিয়ে অমূল্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাদার মধ্যে জুতো হাফিসের দৃশ্যটা মনে পড়ে? বর্ষা মানে মৃন্ময়ী অপর্ণা সেন। বর্ষা মানে কনের বাবার নাভিশ্বাস। বরযাত্রীদের না- বিশ্বাস। গল্পগুচ্ছের ‘যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ’ পড়ে দেখুন।
প্রতি বর্ষায় হাজার হাজার নতুন কবি। বর্ষা মানে পথে-ঘাটে হঠাৎ রবি। শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রম স্কুলে প্রথম বর্ষাবরণ চালু করেছিলেন রবি-পুত্র, অকালপ্রয়াত শমীন্দ্রনাথ। বর্ষা মানে ইউটিউবে রবীন্দ্রসঙ্গীত, ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে, জানি নে, জানি নে...’। বর্ষা মানে মন আনচান। কলঘরে প্রেমের গান।
বর্ষা মানে হেমন্ত। ‘টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে কোন সে আকাশ হতে...।’ বর্ষা মানে ফিরোজা বেগম। ‘এমনই বরষা ছিল সেদিন/ দুয়ারে প্রদীপ ছিল মলিন/ তব হাতে ছিল অলস বিণ/ মনে কি পড়ে প্রিয়...।’ বর্ষা মানেই মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া। ‘শাওন রাতে যদি/ স্মরণে আসে মোরে/ বাহিরে ঝড় বহে/ নয়নে বারিধারা।’
বর্ষা মানে আগে ছিল গামবুট। এখন বর্ষায় আচমকা রংরুট। বর্ষা নিয়ে সবচাইতে বেশি কবিতা লিখেছেন রবি ঠাকুর। বর্ষা বিশ্বকবির অতি প্রিয় এক ঋতু। হবে না কেন, গ্রীষ্মের ‘দারুণ অগ্নিবাণে’ দগ্ধ, শুষ্ক, বনষ্পতিকে নবযৌবন ফিরিয়ে দেয় বর্ষার অবিরাম বারিধারা। কবিদের চোখে বর্ষা যৌবনের ঋতু। মোহিতলাল মজুমদারের ‘কালবৈশাখী’ কবিতাতেও পাওয়া যায় গ্রীষ্ম আর বর্ষার ধ্বংস আর সৃষ্টির গভীর বাণী।
বর্ষা মানে ভূতের গল্প। মড়া কেটে ডাক্তার হলেও, পরলোকে বিশ্বাস না থাকলেও , প্রবলভাবে ভূতপ্রেমিক হয়ে যান কেউকেউ। অন্তত বারদশেক সরাসরি ভূতের দেখা পেয়েছি। চারবার ভরা বর্ষায়। ভূত -বিশেষজ্ঞ প্রয়াত রসরাজ, কবি তারাপদ রায় লিখে গিয়েছেন মানুষ ভূতকে ভয় না পেলেও ভূত মানুষকে খুউউউব ভয় পায়। তেনারা ভূতপ্রেমিককে বড্ড ভালোবাসেন। মানুষকে অকারণে ভয় দেখান না ভূত বা পেত্নীরা। আত্মরক্ষার তাগিদে মাঝেমধ্যে শুধু একটু-আধটু পিলে চমকে দেন!
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অলৌকিক গল্পসমগ্র’ বইতে প্রবল ঝড়বৃষ্টির রাতে ভূতের আবির্ভাবের ঘটনা জানা যায়। কথক বরদা ক্লাবের আলো নিভে গেলেই আড্ডায় ভূতের গল্প বলতে শুরু করে। বড় লেখকদের অনেকের গল্পেই বর্ষার ভূত এসেছে বারবার। লেখকদের কথা বাদ দিন, ওরা সব বানিয়ে বানিয়ে লেখেন। বরং একটা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা লিখে ফেলা যাক।
একবার বর্ষায় সাঁওতাল পরগনার এক আদিবাসী গ্রামে ডেরা বেঁধেছি তিন বন্ধু। গ্রামের নাম রিখিয়া। বিখ্যাত এক কবি বাড়ি বানিয়ে মাঝেমধ্যে এসে থাকতেন এখানে। সেই বাড়িটা তখন আর নেই। কোথাও জায়গা না পেয়ে আমরা উঠেছি এতুয়া মুন্ডার টিনের চাল দেওয়া ছোট্ট একটা ঘরে। এতুয়ার ঘরের পাশেই পরপর তিনটে মাটির হাঁড়ি ভুষোকালি মাখিয়ে সাদা চুন দিয়ে গোল গোল দুটো চোখ এঁকে বাঁশের খুঁটিতে দাঁড় করানো। বারবার বলে দিয়েছে আমাদের, উধার মত যাইয়ে। সেদিন বিকেল থেকেই তুমুল বর্ষণ। টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দে পুলকিত হয়ে একের পর এক গান গাইছি আমরা।
রাত দশটা বেজে গিয়েছে। সাঁওতাল পরগনায় মধ্যরাত। রাতের খাবার দিয়ে যায়নি এতুয়া। ঘরের দরজা খুলে এতুয়ার নাম ধরে হাজার চিৎকার করে ডেকেও কোনো সাড়াশব্দ নেই। সবার পেটে হাজার ছুঁচোর কীর্তন। হঠাৎ করে দরজায় বাইরে থেকে কড়া নাড়বার আওয়াজ। দরজা খুলতেই কেউ নেই! হাতের টর্চ জ্বালল তরুণ। নিজেদের চোখগুলোকেও বিশ্বাস করতে পারছি না আমরা। অনেকটা লম্বা মাটির ভেজা দাওয়ায় কাঁচা শালপাতার থালায় ধোঁয়া ওঠা গরম খিচুড়ি। বারান্দায় অলৌকিক আলো। সবাই গপাগপ শেষ করে ফেললাম গরমাগরম খিচুড়ি। খাওয়া শেষ করে বৃষ্টির জলে হাত মুখ ধোয়া। বারান্দার আলোটা মুছে গেল তখনই। তরুণের টর্চ জ্বলছে না। দরজাটা কোন দিকে তাও বুঝতে পারছি না। হঠাৎ করে বাঁশের মাথায় ঝোলানো সেই কালো হাঁড়ি তিনটের আঁকা চোখগুলো জ্বলতে নিভতে শুরু করল। ভূতুড়ে খিচুড়ি প্রাণরক্ষা করেছে। এখন ঘরের দরজা চেনাচ্ছে ভূতুড়ে আলো। বর্ষার ভূতের মতো এমন উপকারী জীব আর একটিও নেই। ‘যা চাবি তাই পাবি ... ভয় নাই ভয় নাই ভয় নাই।’ এ যেন ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ সিনেমার ভূতের রাজার গাওয়া গানটাই গেয়ে উঠছে বর্ষার ভূত।
বর্ষায় বিকেল হলেই আপাদমস্তক বর্ষার কাদা মেখে দুমদাম ফুটবল পেটাচ্ছে একদঙ্গল শৈশব। পায়রার খুপড়ি ছেড়ে ভিজতে ভিজতে গ্রামে চলে গেলে দেখতে পাবেন এই বর্ষাতেও। পাশের বাড়ির জানালা দিয়ে বঙ্কুজেঠু হাত নেড়ে ডেকে চলেছেন ‘আষাঢ়ে গল্প’ শোনাতে। গল্প শুনলেই হাতি ঘোড়া বিস্কুট হাতে হাতে। ঘর ছেড়ে বেরোতে ভয়? আজ রবিবার। দুপুরে খিচুড়ি আর ডিমভাজা খেয়ে লীলা মজুমদারের ‘সব ভূতুড়ে’ আর ‘হলুদ পাখির পালক’ বই দুটো নিয়ে বসে যান। বর্ষায় ভূতই ভরসা!



