নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের টাকা পেতে আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বর সংযোগ বাধ্যতামূলক। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে গেলেও আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর তাতেই চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রান্তিক মানুষজন। তাছাড়া অনেকেরই আধার কার্ডে নামের বানান ভুল, তো কারও জন্ম তারিখের তথ্যে অমিল রয়েছে। ফলে সরাসরি বাতিল হয়ে যাচ্ছে আবেদন। মিলছে না প্রকল্পের ভাতা। এসব ত্রুটি সংশোধনের জন্য শনিবার সিউড়ি বড় ডাকঘরের সামনে কার্যত জনস্রোত বয়। লাইনে দাঁড়িয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিলেন ভুক্তভোগীরা।
এদিন সকাল থেকেই শহরের বড় ডাকঘর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ লাইন মসজিদ মোড় হয়ে, মনসা মন্দিরের পাশ দিয়ে একেবারে গার্লস স্কুল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন হওয়ায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয় রাস্তায়। লাইন ঠিক করতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পুলিশের অনুমান, চার হাজারের বেশি মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এর আগে এত বড় লাইন দেখা গিয়েছিল নির্বাচনের আগে এসআইআরের ট্রাইবুনালে আবেদনের সময়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার রাত প্রায় ২টো থেকে লাইন শুরু হয়েছে। ভোররাত থেকে একাধিকবার ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলেও কেউ লাইন ছাড়েননি। ছাতা মাথায় ঠায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন। তাঁদের ক্ষোভ, খেটে খাওয়া গরিব মানুষকে লাইনে দাঁড় করানো ছাড়া কী আর কোনও কাজ নেই সরকারের? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠাতে বা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার(ডিবিটি) ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতেই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আধার, ব্যাঙ্ক ও মোবাইল নম্বরের তথ্যে বিন্দুমাত্র অমিল থাকলে অনুদানের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। আর সেই আতঙ্ক থেকেই মানুষের এই বিপুল ভিড়। এদিন ডাকঘরের সামনে যাঁরা ভিড় জমান তাদের অধিকাংশই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। কেউ হোটেলে রান্নার কাজ করেন, কেউ শ্রমিক, কেউ বা দিনমজুর। দিনের কাজ ফেলে, পারিশ্রমিক খুইয়ে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন লাইনে দাঁড়াতে। সিউড়ি-২ ব্লকের কোমা অঞ্চলের বাসিন্দা দিনমজুর সোনামণি বাগদি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, অন্নপূর্ণার টাকা পাইনি। বলল আধার কার্ডে গণ্ডগোল আছে। তাই ঠিক করতে এসেছি। রাত ২টো থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এত ঠেলাঠেলি, কেউ সকাল ৭টায় এসে জোর করে সামনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। সারা রাত জেগে আছি, খাবার জোটেনি। বড়বাগান থেকে আসা লক্ষ্মী মহারা বলেন, মোবাইল নম্বরের সঙ্গে আধার কার্ড লিংক করার জন্য রাত ২টো থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। চাকদহ গ্রাম থেকে আসা নৃপেন অঙ্কুর বলেন, আজকাল একটু বড্ড বেশিই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে! এক দিনের পারিশ্রমিক নষ্ট। এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে এদিন সকালে আসরে নামে ট্রাফিক পুলিশ।