নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: দু’ দিনের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছিল জেলার বিভিন্ন প্রান্ত। তাতে ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে তিনশো কোটি টাকার বেশি। ধাপে ধাপে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট হাতে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। তবে জেলা প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ বিষয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে। জলমগ্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেই কাজে খুশি রাজ্য প্রশাসন। এদিন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চাষের। বিঘার পর বিঘা জমির সব্জি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে রাস্তা ও কাঁচাবাড়িরও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বাড়ি বাড়ি ত্রাণ দেওয়ার কাজ চলছে। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরজমিনে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রশাসনের তরফে স্বাস্থ্য শিবিরও করা হচ্ছে। সেই শিবির থেকে বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এছাড়াও প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন এলাকায় খাবার বিতরণও করা হচ্ছে।
এদিন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, দু’ দিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে যায় বহু এলাকা। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত বিষয়ের উপর নজর রাখছেন। পরিস্থিতি দ্রুত অনুকূল হচ্ছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, সত্যি খুবই সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। প্রশাসন মানুষের পাশে সর্বদা থাকবে।
প্রসঙ্গত, বৃষ্টির পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। সেই মতো টানা বৃষ্টি হওয়ায় প্রথমে গড়বেতা-১, গড়বেতা-২ ব্লকের বেশকিছু এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে। ১৮ জুন রাত থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ১৯ জুন বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। গড়বেতা-১ ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও গড়বেতা-২ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০ জুন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও জেলার প্রথম সারির নেতারা। জানা গিয়েছে, গড়বেতা-১, গড়বেতা-২ ব্লক থেকে জল তাড়াতাড়ি নেমে গেলেও, চন্দ্রকোণা ও ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ শিবির শুরু করে প্রশাসন। একাধিক এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, রাস্তা ও ছোট ছোট সেতুর ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গড়ে ৫ থেকে ৭ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শুধু গড়বেতা-২ ব্লকে দু’ হাজারের বেশি ত্রিপল বিলি করা হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একশো শতাংশ মানুষকেই নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ শিবির চালানো হচ্ছে।জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, বহু রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান করা হবে। গড়বেতা-১ ব্লকের বাসিন্দা সুরজিৎ মাঝি বলেন, ঘরের ভিতর প্রচুর জল ঢুকেছিল। প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার করেছে। না হলে খুব সমস্যায় পড়তাম।