Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিম্নচাপের বৃষ্টিতে বাঁকুড়ায় ১৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

অতিবৃষ্টির জেরে সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এর জেরে সরকারি সম্পত্তি ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে মোট ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

নিম্নচাপের বৃষ্টিতে বাঁকুড়ায় ১৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অতিবৃষ্টির জেরে সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এর জেরে সরকারি সম্পত্তি ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে মোট ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে ব্লকস্তর থেকে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট নেওয়া হয়েছে। পূর্ত, সেচ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি সহ অন্য দপ্তরগুলিও ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য পেশ করে। তার ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসন একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে। সেই রিপোর্ট রাজ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত যাতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, রাস্তা মেরামত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তার জন্যও তদ্বির করা হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। 

Advertisement

বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (বিপর্যয় মোকাবিলা) নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, নিম্নচাপের জেরে জেলায় মোট ১৬.০২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই রিপোর্ট রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। 
জেলা প্রশসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অবিরাম বৃষ্টি, বন্যা ও জলমগ্ন পরিস্থিতিতে বাঁকুড়ায় মোট ১৪০০ বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে বহু বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। আংশিক ক্ষতি হয়েছে, এমন বাড়িঘরও কার্যত বসবাসের অযোগ্য। ঝুঁকিপূর্ণ ওই বাড়িগুলির দ্রুত মেরামত  প্রয়োজন। বাড়িঘরের পাশাপাশি জেলার দ্বারকেশ্বর, গন্ধেশ্বরী, কংসাবতী, শীলাবতী, শালী নদী ও অন্য সব খালের উপর থাকা একাধিক কজওয়ে, কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। বাঁকুড়া শহর এবং বাঁকুড়া-১ ও ২ ব্লকের মিনাপুর, মানকানালি কজওয়ের উপর দিয়ে টানা নদীর জল বয়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়। রাইপুর ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর অঞ্চলের সর-পালি এলাকার একটি কজওয়ে জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের উপর সিমলাপাল নদীঘাটের কজওয়েরও ক্ষতি হয়েছে। খাতড়া মহকুমার তালডাংরা, ইন্দপুর সহ অন্য ব্লকে ভারী বৃষ্টির জেরে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কালভার্ট, কজওয়ে, সেতু ও রাস্তাঘাট মিলিয়ে ক্ষতির অঙ্ক ১০ কোটি  ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ব্লকে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। সেচ বিভাগের আরএলআই পাম্পসেট, টিউবওয়েলের ক্ষতি হয়েছে। বিষ্ণুপুর মহকুমার কোতুলপুর সহ অন্য ব্লকের ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট কৃষি ও উদ্যানপালন দপ্তরের তরফে প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতির বহর বেশি বাদাম বাগান, সব্জি খেতে। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, গতবছর বন্যার জেরে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি সরকারি গৃহনির্মাণ প্রকল্পে তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সুবিধা দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রাজ্যের অনুমোদন না পেলে আমরা তা করতে পারি না। রাজ্য থেকে সচিব পর্যায়ের তিন আধিকারিক ও মন্ত্রীরা জেলায় পরিদর্শনে এসেছিলেন। তাঁদেরও ফিরে গিয়ে রিপোর্ট পেশের কথা। আমরা  ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত রিপোর্টের সঙ্গে অর্থ প্রদানের আবেদন জানাচ্ছি। রাজ্য অর্থ বরাদ্দ করলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিপূরণের কাজ হবে। আপাতত দুর্গতদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। ত্রিপল, জামাকাপড়, শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ