সংবাদদাতা, কাটোয়া: এক-দু’দিন অন্তর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে ভিজছে বহু এলাকা। তাতে বোরো ধানের দফারফা হলেও আমচাষিদের জন্য বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ। ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে আমের গুটি পরিণত হবে। তাছাড়া আমের বোঁটাও শক্ত হবে। পূর্বস্থলীর আম চাষিরা স্বস্তিতে রয়েছেন। তাপপ্রবাহে শুকিয়ে যাচ্ছিল আমের গুটি, বৃষ্টিআমচাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার উদ্যান পালন দপ্তরের অফিসার সুদীপ ভকত বলেন, গাছে যখন মুকুল থাকে বা গুটি ধরে তখন গাছের গোড়ায় হালকা সেচ দিতে হয়। অথবা গাছের উপরে জল ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তাপপ্রবাহে আমের গুটি শুকিয়ে নষ্ট হতে বসেছিল। বৃষ্টি আম গাছে সেচের কাজটা করল।আগের বছর আমের ফলন ভালো হয়নি। তারজন্য বাজার চড়া ছিল। এবার পূর্বস্থলীজুড়ে তুলনায় মুকুল ভালো এসেছে। কিন্তু গত কয়েকদিনের তাপপ্রবাহে চাষিদের চিন্তায় ফেলেছিল। আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে পড়ে যাচ্ছিল।গত দু’ দিনের বৃষ্টি তাঁদের চিন্তামুক্ত করেছে।
রাজ্যে সুনাম রয়েছে পূর্বস্থলীর সুস্বাদু আমের। পূর্বস্থলীতে হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, ফজলি, গোলাপখাস, মিঠুয়া, আম্রপালি ছাড়াও প্রায় তিরিশ প্রজাতির আম চাষ হয়। বিকল্প চাষ হিসেবে কৃষিজমিতে আমের বাগান করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ আমের উৎপাদন হয় পূর্বস্থলীতে। রাজ্য সরকার আয়োজিত ২০১৬ সালে কলকাতার আম উৎসবে পূর্বস্থলীর ‘হিমসাগর আম’ সেরার পুরস্কার পেয়েছে। এমনকী ২০১৭ সালে বীরভূম জেলার আম উৎসবেও সেরা হয়েছে পূর্বস্থলীর আম। আগে রাজ্যে সেরার তালিকায় নাম ছিল মালদা, মুর্শিদাবাদ জেলার আমের। ইদানীং পূর্বস্থলীর সুস্বাদু আমের কদর বাড়ছে। পূর্বস্থলী ২ ব্লকে ১০টি অঞ্চল সহ পূর্বস্থলী ১ ব্লকের কয়েকটি অঞ্চলজুড়ে প্রচুর সুস্বাদু আমের বাগান রয়েছে। রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্যেও পূর্বস্থলীর আমের চাহিদা আছে। এখানকার আম ভিনরাজ্যেও পাড়ি দেয়।
পূর্বস্থলীর বরজপোতা গ্রামের চাষি আখিরুল শেখের প্রায় পঞ্চাশ বিঘা আমের বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, গতবারের তুলনায় এবার আমের ফলন মোটামুটি হয়েছে।তবে খুব বেশি হয়নি। প্রখর গরমে আমের টি শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বহু গাছে। বৃষ্টিতে এবার বোঁটা শক্ত হবে। আমও পরিণত হবে। আরেক চাষি নিরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, বৃষ্টিতে আর যাই হোক আমাদের পক্ষে ভালোই হয়েছে। অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হলেও আম গাছের পক্ষে ভালো। তবে এবারও বহু গাছে আম নেই। শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে তা নিয়েই চিন্তায় রয়েছি।
পূর্বস্থলী জুড়ে অনেকেই লিজে আমের বাগান নেন। শ্রমিক নিযুক্ত করে বাগান পরিচর্যা করেন। বাজারে এবার আমের জোগান কতটা হবে তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তাঁরা। তবে পূর্বস্থলী পঞ্চায়েত এলাকায় বহু গাছে ভালো গুটি ধরেছে। অনেকেই বলছেন, আর যদি কালবৈশাখী দাপট না দেখায় তাহলে চাষিদের খরচ কিছুটা হলেও উঠবে। কিন্তু আবার ঝড় হয়ে গুটি ঝরে গেলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন চাষিরা।