Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোসাবা ও হিঙ্গলগঞ্জে রায়মঙ্গল নদীর বাঁধে ধস, প্লাবিত বহু গ্রাম

বুধবারের পর বৃহস্পতিবার ফের নতুন করে নদী বাঁধে ধস নামল গোসাবায়।

গোসাবা ও হিঙ্গলগঞ্জে রায়মঙ্গল নদীর বাঁধে ধস, প্লাবিত বহু গ্রাম
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: বুধবারের পর বৃহস্পতিবার ফের নতুন করে নদী বাঁধে ধস নামল গোসাবায়। আমতলি পঞ্চায়েতের পুঁইঞ্জলী গ্রামের হরিতলায় এদিন রায়মঙ্গলের বাঁধের আরও ১০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে যায়। ফলে হু হু করে জল ঢুকছে গ্রামে। একই পরিস্থিতি উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের হেমনগর এলাকায়। সেখানে বুধবার গভীর রাতে সেই রায়মঙ্গল নদীর বাঁধেই ধস নেমে প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু গ্রাম। তবে গ্রামবাসী ও প্রশাসনের তৎপরতায় তা কিছুটা হলেও মেরামত করা গিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় পরিস্থিতির এখনও উন্নতি হয়নি। সেচদপ্তরের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ মেরামতির কাজ করছেন। তবে যেভাবে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, তাতে কতদিনে জল নামবে, তা এখনই হলফ করে বলা যাচ্ছে না। আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। ইতিমধ্যেই দেড় হাজারের বেশি গ্রামবাসীকে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Advertisement

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, গোসাবার পুঁইঞ্জলী গ্রামে ৬০ মিটার নদীবাঁধ ভেঙে গিয়েছে। যদিও গ্রামবাসীদের দাবি, বাঁধ ভেঙেছে ১০০ মিটারেরও বেশি। ওই অংশ দিয়ে হু হু করে গ্রামে জল ঢুকছে। গ্রামের কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও আবার কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভাটার সময় জল কিছুটা নামলেও জোয়ারে ফের টইটম্বুর হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভিটে ছেড়েছেন অনেকেই। যতদূর চোখ যায়, চারদিক শুধু থই থই করছে জল। নদী, পুকুর, চাষের জমি মিলেমিশে একাকার। কোনটা কী, বোঝার উপায় নেই। আপাতত দুর্গতদের গ্রামেই ফ্লাড শেল্টারে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানেই খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। দেওয়া হয়েছে ত্রাণ সামগ্রী।গ্রামবাসীদের কথায়, এর আগে কখনও এমন পরিস্থিতি হয়নি। হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে খবর, ধান ও সবজি মিলিয়ে প্রায় ১৬০ হেক্টর চাষের জমি প্লাবিত হয়েছে। দ্রুত জল না নামলে চাষে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডল বলেন, সেচদপ্তরের কর্মীরা জোরকদমে বাঁধ মেরামতির কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিক না করা পর্যন্ত নদীর জল আটকানো সম্ভব হবে না।
এদিকে, সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের হেমনগরে ধস নেমেছে রায়মঙ্গলের বাঁধে। গ্রামবাসীদের কথায়, বাঁধের ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট অংশে ধস নেমেছে। স্থানীয় সূত্রে জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে হঠাৎ রায়মঙ্গল নদীর বাঁধ বসে যায়। ফলে নদীর নোনা জল গ্রামে ঢুকতে শুরু করে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষজন নিজেরাই বাঁধ মেরামতের কাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় বিডিও অফিসে। আসে হেমনগর কোস্টাল থানার পুলিশ। সকলের তৎপরতায় আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন দাস বলেন, মাটির বাঁধ দিয়ে বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যাবে না। কারণ নদীর স্রোতে বাঁধের মাটি ধুয়ে চলে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত কংক্রিটের বাঁধ দেওয়া হোক এখানে। হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছেন। বিধায়ক বলেন, কেন্দ্র ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা দীর্ঘদিন আটকে রাখায় নদীবাঁধের কাজ করতে পারছেন না শ্রমিকরা। যার ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ