নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: আগামী বছর দীপাবলির আগেই ঝাঁ চকচকে অত্যাধুনিক যাত্রী সুবিধা কেন্দ্র (হোল্ডিং এরিয়া) পেতে চলেছে হাওড়া-শিয়ালদহ। উৎসবের মরশুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেল যাত্রীদের ঢল নামে। লাখ লাখ যাত্রীকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে গুচ্ছ গুচ্ছ স্পেশাল ট্রেন চালায় রেল। প্রবল এই ভিড়ের সময় অধিকাংশ যাত্রী অসংরক্ষিত আসনের টিকিট কেটে যাত্রা করেন। ফলে টিকিট কাটা থেকে ট্রেনে ওঠা— গোটা প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মারাত্মক চাপ পড়ে বড়ো বড়ো স্টেশনগুলিতে। যার থেকে পদপৃষ্টের মতো ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। সম্প্রতি দিল্লি ও মুম্বইয়ে এই ধরনের প্রাণহানির ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে রেল। চলতি দীপাবলির মরশুমে নিউ দিল্লি স্টেশনে তৈরি হয়েছে উন্নত পরিকাঠামোর যাত্রী সুবিধা কেন্দ্র। যার মাধ্যমে নির্বিঘ্নে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে ট্রেন যাত্রা নিশ্চিত করা গিয়েছে। এই সাফল্যকে সামনে রেখেই গোটা দেশের ১৬টি রেল জোনের অধীনে ৭৬টি যাত্রী সুবিধা কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যার মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অধীনে থাকা হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল, শালিমার, রাঁচি, টাটা, ভাগলপুর এবং জসিডি স্টেশনে এই কেন্দ্র তৈরি হবে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী বছর উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই ৭৬টি স্টেশনে ‘পার্মানেন্ট হোল্ডিং এরিয়া’ তৈরি করে ফেলতে হবে। কোনওমতেই এই লক্ষ্যমাত্রা ‘মিস’ করা যাবে না। রেল বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের প্রতি মাসে এ সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সংশ্লিষ্ট জোন এবং ডিভিশনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মন্ত্রী। জানা গিয়েছে, এই হোল্ডিং এরিয়া মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি সংরক্ষিত টিকিটহীন যাত্রীদের স্টেশনের নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার জন্য তৈরি। পরবর্তীতে ওই এলাকার পাশেই অসংরক্ষিক অজস্র টিকিট কাউন্টার চালু করা। যাতে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই যাত্রীরা গন্তব্যে যাওয়ার বৈধ টিকিট পেতে পারেন। এক্ষেত্রে যাত্রীদের মাথার উপর ছাউনি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি থেকে যাত্রীদের বাঁচাতেই এই উদ্যোগ। এক্ষেত্রে অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী ছাউনি তৈরি করা হবে চিহ্নিত এই রেল স্টেশনে। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য পরিস্রুত পানীয় জল, শৌচাগার সহ একাধিক মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে এই হোল্ডিং এরিয়ায়। পরবর্তীতে টিকিট কাটার পর ট্রেনে ওঠার জন্য পৃথক জায়গায় নির্দিষ্ট রুটের যাত্রীদের একত্র করা। শেষ পর্যায়ে রেলরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে সুশৃঙ্খলভাবে যাত্রীদের ট্রেনে তুলে দেওয়া। অর্থাৎ স্টেশন চত্বরে ঢোকা থেকে নিরাপদে যাত্রীদের ট্রেনে তুলে দেওয়া পর্যন্ত গোটা যাত্রাকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেই বিশেষ এই ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রেল। হাওড়া-শিয়ালদহ-শালিমার-আসানসোল সহ বাংলার একাধিক বড়ো স্টেশন এক বছরের মধ্যে সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকা যাবে।