Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরসভার পাওনা ২২ কোটি টাকা দিচ্ছে না রেল, আক্রমণ তৃণমূলের

বীজপুর বিধানসভার মধ্যে কাঁচরাপাড়া পুরসভা এলাকার ৭০ শতাংশ জমি রেলের। কিন্তু বাসিন্দাদের সমস্ত নাগরিক পরিষেবা দেয় কাঁচরাপাড়া পুরসভা

পুরসভার পাওনা ২২ কোটি টাকা  দিচ্ছে না রেল, আক্রমণ তৃণমূলের
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বীজপুর বিধানসভার মধ্যে কাঁচরাপাড়া পুরসভা এলাকার ৭০ শতাংশ জমি রেলের। কিন্তু বাসিন্দাদের সমস্ত নাগরিক পরিষেবা দেয় কাঁচরাপাড়া পুরসভা। রাস্তা তৈরি, জল সরবরাহ, জঞ্জাল সাফাই, আলো সহ সব কাজ করে কাঁচরাপাড়া পুরসভা। কিন্তু বাসিন্দাদের কাছ থেকে ট্যাক্স পায় না। রেলের কাছে সার্ভিস চার্জ চেয়েছিল পুরসভা। কিন্তু একবারের বেশি তা দেয়নি রেল। বকেয়া সার্ভিস চার্জের পরিমাণ প্রায় ২২ কোটি টাকা। 

Advertisement

শুধু তাই নয়, রেলের অনেক ফাঁকা জমি ও পরিত্যক্ত কোয়ার্টার পড়ে আছে। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য পড়ে থাকা জমি লিজে চেয়েছিল পুরসভা। রেল উচ্চবাচ্য করেনি। এমনকি বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু রেল সদুত্তর দেয়নি। রেলের অসহযোগিতা প্রচারে তুলে ধরছে তৃণমূল। সেই সঙ্গে রেলের কাছে বকেয়া সার্ভিস চার্জের কথাও তৃণমূলের প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী প্রচারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছেন, রেল যদি আমাদের জমি দিত, আমরা সামগ্রিক উন্নয়ন করতে পারতাম। রেলের অসহযোগিতার জন্য কাঁচরাপাড়ায় উন্নয়ন ধাক্কা খাচ্ছে। শুধু বাড়ি বাড়ি প্রচার নয়, পথসভাতেও তা তুলে ধরা হচ্ছে। অবশ্য বিজেপি তার পালটা বলছে, ডবল ইঞ্জিন সরকার এলে রেল এবং রাজ্য সরকার যৌথভাবে উন্নয়নের কাজ করবে।
কাঁচরাপাড়া সাধারণত রেল শহর বলেই পরিচিত। ওয়ার্কশপে বহু মানুষ চাকরি করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময় অনেক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কাঁচরাপাড়ার প্রভূত উন্নতি হয়েছিল। পরে রেল সেদিকে আর নজর দেয়নি। কলকাতার পরে সব থেকে বড়ো বাজার কাঁচরাপাড়ায়। বারাকপুর শিল্পাঞ্চল এবং নদীয়ার বহু মানুষের কেনাকাটার গন্তব্যস্থল হল এই কাঁচরাপাড়া। কাঁচরাপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী প্রচারে প্রতিমুহুর্তেই তাই রেল তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণের কথা তুলে ধরছেন। পাশাপাশি বুধবার প্রচারে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের বাসস্থান অক্ষত থাকবে না। নিজেদের জমিতে থাকা নির্মাণে বুলডোজার চালাবে রেল। আপনাদের উচ্ছেদ করা হবে। ভোটের মুখে এই ইস্যুতে সরগরম হয়ে উঠেছে বীজপুর বিধানসভা। যদিও এই বিষয়ে পূর্ব রেলের সিপিআরও শিবরাম মাঝি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সম্পর্কিত সংবাদ