সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আন্ডারপাসে জল জমার সমস্যা মেটাতে না পেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই মুরারইয়ে লেভেল ক্রসিং গেট খুলে দিতে বাধ্য হল রেল। শুক্রবার রাত থেকেই রেলগেট দিয়ে লাইন পারাপার করে সাধারণ মানুষ থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেলেন মুরারই সহ লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দারা।
ঝাড়খণ্ড ঘেঁষা মুরারই স্টেশন। বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লুপ লাইন মুরারইয়ের বুক চিরে চলে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম এই রুট দিয়ে প্রচুর প্যাসেঞ্জার ট্রেন ও মালগাড়ি যাতায়াত করে। প্রতিদিনই রেলগেট থমকে যেত জনজীবন। দীর্ঘক্ষণ রেলগেট বন্ধ থাকায় দু’ধারেই সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সাইকেল, ভ্যান, মোটরবাইক। বহু যানবাহন আটকে পড়ত। বিকল্প রাস্তা না থাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করত। সমস্যার সমাধানে শর্ত আরোপ করে রেল। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্ডারপাস নির্মাণে রেল আগ্রহী। কিন্তু রেলগেট চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই শর্ত মেনে রেলগেটের অদূরে আন্ডারপাস নির্মাণ হয়। গত ২ মার্চ রাতে লেভেল ক্রসিং গেট বন্ধ করে যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য অসম্পূর্ণ আন্ডারপাস খুলে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও সেই সময় মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করে আন্ডারপাসে জল জমলে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়বে। তাই আন্ডারপাসে যাতে বৃষ্টির জল জমা না হয়, সেজন্য শেড নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয় রেল। কিন্তু তা এখনও পূরণ হয়নি। এরই মধ্যে দিন কয়েক ধরে প্রায়ই বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে পড়ায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে। চরম সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। খুব প্রয়োজনে এক বুক জল ঠেলে মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সমস্যায় পড়ছেন অসুস্থ রোগীর পরিজনরা। বৃহস্পতিবার সমস্যার সমাধানে রেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিধায়ক মোশারফ হোসেন, বিডিও বীরেন্দর অধিকারী সহ জনপ্রতিনিধিরা। বৈঠকে রেলের পক্ষ থেকে দু’দিনের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারলে লেভেল ক্রসিং গেট খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেই নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার রেলগেটের ঢালাই ভেঙে খুঁটি তুলে ফেলে রেলগেট খুলে দেওয়া হয়।
বিধায়ক বলেন, রেল দু’দিন সময় নিলেও তার মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারায় রেলগেট খুলে দিতে বাধ্য হয়েছে। মুরারই বাজারের মহানালা রেলের ওই অংশ কাঁচা রয়েছে। ফলে নালার ধস নামায় জল আন্ডারপাসে জমা হওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া আন্ডারপাসে শেড নির্মাণ করতে হবে। জল জমলে তা অটোমেটিক পাম্পের সাহায্যে বের করার ব্যবস্থা প্রয়োজন। রেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এগুলি তারা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় করবে। আন্ডারপাসে জল নিকাশি ব্যবস্থা সুন্দর হয়ে গেলেই ফের লেভেল ক্রসিং গেট বন্ধ করে দেবে রেল। যদিও জল জমার সমস্যা মেটার নয় বলে জানাচ্ছেন রেলেরই একটা অংশ। সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে আন্ডারপাস নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিকে বৃষ্টি হলেই মুরারই বাজারের সর্বত্র নিকাশি নালা উপচে জলমগ্ন হয়ে পড়ছে রাস্তা। কোথাও নোংরা জল বাড়ির ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে। এদিকে যাতায়াতের দু’টি মাধ্যম মুরারই ও গুসকরার গ্রামের রেলের আন্ডারপাসেও জল জমে। দমবন্ধ অবস্থা এলাকাবাসীর। তাই নিয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এলাকার মানুষ। যদিও বিডিও বলেন, আগে একশো দিনের কাজের টাকায় নালা পরিষ্কার করা হতো। এখন নালা পরিষ্কারের জন্য কোনও ফান্ড নেই। তাছাড়া সাধারণ মানুষের বড় একটা অংশ নালার মধ্যে প্লাস্টিক, ক্যারিব্যাগ সহ নোংরা আবর্জনা ফেলে দিচ্ছে।