Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় মালগুদাম  ও সব্জি বাজার ভাঙল রেল, সঙ্কটে ব্যবসায়ীরা

কাটোয়ায় মালগুদাম  ও সব্জি বাজার ভাঙল রেল, সঙ্কটে ব্যবসায়ীরা
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ চলছে৷ রেলের জায়গা জবর দখল করে থাকা একের পর এক বস্তি উচ্ছেদ করেছে আরপিএফ। বহু অস্থায়ী দোকানঘর ভেঙে ফেলেছে রেল৷ রাতের অন্ধাকারে  শহরের বহু পুরনো স্টেশন বাজারের মালগুদাম ও সব্জি বাজার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে আরপিএফ৷ শনিবার গভীর রাতে মালগুদাম ঘিরে দিল রেল৷ তাতে দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন হকার থেকে ট্রেন ধরতে যাওয়া মানুষজনও৷ 

Advertisement

মালগুদামে কেউ সত্তর বছর ধরে ব্যবসা করছেন৷ কেউ আবার ষাট বছর ধরে ব্যবসা করছেন৷ রেলের জায়গা দখল করে দোকান তৈরি করে ব্যবসা করছিলেন৷ কাটোয়া স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া এলাকাটিই মালগুদাম নামে পরিচিত৷ সেখানে  প্রায় ১০৬ জন হকার অস্থায়ী ছাউনি করে সব্জি বিক্রি করতেন৷ ওই বাজারে পাইকারী সব্জিই বেশি বিক্রি হয়৷ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম সহ বিভিন্ন এলাকার চাষিরা ট্রেনে এসে তাঁদের জমির ফসল ওই বাজারেই বিক্রি করেন৷ কাটোয়া মহকুমার বাসিন্দারা শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই বাজার থেকে সব্জি কিনে ট্রেন ধরেন। গত ২৮ মে হকারদের উচ্ছেদ নোটিশ ধরায় রেল৷ তারপর গভীর রাতে হকারদের দোকান জেসিবি দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ এবার পুরো মালগুদাম করগেট দিয়ে রাতের অন্ধকারেই ঘিরে দেওয়া হয়েছে৷ যা নিয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে৷ হকারদের দাবি, আমরা রেলের অফিসারদের কাছে আবেদন করেছিলাম, যতদিন না প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে ততদিন আমাদের অন্তত অস্থায়ী ভাবে বসতে দেওয়া হোক৷ সন্ধ্যা হলেই আমরা জায়গা ছেড়ে দেব৷ রেল তা শুনল না৷ ফের দখলের ভয়ে ওরা জায়গাটা ঘিরে দিয়েছে৷ মালগুদামের ভিতর দিয়ে যাঁরা ট্রেন ধরতে যেতেন তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে৷ পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা বলেন, রেলের অফিসারদের বলেছিলাম আমাদের সবার সঙ্গে বৈঠকে বসে সমাধান সূত্র বের করা হবে৷ এতগুলি পরিবার সংসার চালাবে কি করে৷ রেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমাদের রবিবার বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছিলেন৷ আমরা সেইমত এদিন অফিসে গিয়ে দেখি তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন৷ এবার আমরা ডিআরএমকে লিখিত ভাবে সব জানাব৷ একবছর ধরে অমৃত ভারত প্রকল্পের নামে স্টেশনের যা অবস্থা করে রেখেছে, কেউ সেখানে পা রাখতে পারছেন না৷ কাটোয়া স্টেশনের ম্যানেজার সুপ্রভাত ভট্টাচার্য বলেন, একবার জায়গা উচ্ছেদ করা হয়েছে৷ এখন সেখানে অস্থায়ীভাবে বসতে দিলে আবার উচ্ছেদ সমস্যা হবে৷ তা ছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ৷ সেখানে আমাদের কিছুই করার নেই৷ সব্জি ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের পরিবার রয়েছে৷ সব্জি বিক্রি করেই ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতাম। রেল এতকিছু করছে৷ আমাদের মত ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কেট করে দিলে ভালো হতো৷ এখন আমাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে। আমরাও চাই প্রকল্প হোক৷ কিন্তু রেল কাটোয়ায় অনেক জায়গাতেই উচ্ছেদ করেছে৷ এখনও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করেনি।কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রামবিলাস পাসোয়ান থেকে লালুপ্রসাদ যাদব, যিনি রেলমন্ত্রকের দায়িত্বে এসেছেন, তাঁদের কাছে কাটোয়ায় রেলগেটে ওভারব্রিজ করার জন্য সরব হয়েছিলাম৷ রেল সে সব গুরুত্ব না দিয়ে সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মারছে৷ অমৃত ভারত প্রকল্পের নামে গরিব মানুষদের উচ্ছেদ করছে৷ রাজ্য সরকার হকারদের পুনর্বাসন দিয়েছে৷ রেল হকারদের সেই ব্যবস্থা করুক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ