নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রেলকর্মীদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টানা তিন দিন ধরে চলছিল রেললাইন মেরামতের কাজ। অক্লান্ত পরিশ্রমের পর অবশেষে স্বস্তি ফিরল রেলযাত্রীদের। প্রবল বৃষ্টিতে নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ধসে যাওয়া রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে কাল। তার পরে ট্রায়াল রান ও সফল হয়। আজ রবিবার দুপুরে নতুন করে বসানো লাইনের উপর দিয়ে ফের শুরু হল যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এর ফলে ধীরে ধীরে পুরনো ছন্দে ফিরল নিউ ফরাক্কা স্টেশন।
রেললাইন মেরামতির পর রবিবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন হিসেবে ওই অংশ দিয়ে ছুটল হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনডাঙা ও নিউ ফরাক্কা স্টেশনের মধ্যবর্তী প্রায় ৮০০ মিটার এলাকায় ধস নেমেছিল। প্রবল বৃষ্টির জেরে রেললাইনের নীচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় প্রায় দুই মিটার বসে যায় লাইন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান পূর্ব রেলের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা। শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ। টানা প্রায় ৫৬ ঘণ্টা ধরে চলে মাটি ভরাট, স্লিপার বসানো এবং রেললাইন পুনর্নির্মাণের কাজ। শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যান রেলকর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে এক রেলকর্মী অসুস্থও হয়ে পড়েন। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি মেরামতির কাজ। কর্মীদের মনোবল বাড়াতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে। কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে তদারকি করার পাশাপাশি কর্মীদের উৎসাহ দিতে তাঁকে হাততালি দিতেও দেখা যায়। ঊর্ধ্বতন কর্তাদের এই উপস্থিতি ও আন্তরিকতা কর্মীদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই বিপর্যয়ের জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত বাতিল করা হয় ৮৮টি দূরপাল্লার ট্রেন। ফলে রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে বিকল্প হিসেবে বাস ও বিমানের উপর নির্ভর করতে হয়।
অবশেষে মেরামতির কাজ শেষ হয়ে রবিবার ফের ওই পথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে রেলযাত্রীদের মধ্যে। রেলকর্মীদের টানা পরিশ্রমেই তিন দিনের মধ্যে বিপর্যস্ত রেলপথ ফের সচল করা সম্ভব হয়েছে।