সংবাদদাতা, মানকর: এক রেলকর্মীকে পুলিসি হেনস্তার অভিযোগ তুলে শুক্রবার সকালে মানকরে ৯২ নম্বর রেলগেট অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন রেলকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে কর্মরত অবস্থায় বৈদ্যনাথ বিশ্বকর্মা নামে এক কর্মীকে বুদবুদ থানার পুলিস প্রথমে হেনস্তা করে। তারপর রেল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করা হয়। পুলিসের এই আচরণের প্রতিবাদে রেলকর্মীরা রেলগেট বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের জেরে গেটের দু’ দিকেই আটকে যায় বহু গাড়ি। আসানসোল ডিভিশনের এক আধিকারিক বলেন, রেল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, আসানসোল ডিভিশনের মানকরে দু’টি রেলগেট রয়েছে। ৯২ নম্বর রেলগেটে কাজ চললে পশ্চিম প্রান্তের ৯৪ নম্বর গেট দিয়ে গাড়ি যাতায়াত করে। দু’টি গেটেই তখন যানবাহন যাতে সহজে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য কর্মী মোতায়েন করা হয়। রেলকর্মীরা জানান, নিয়ম মেনে গেটের কাছে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের কর্মী বৈদ্যনাথকে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত ২টোর দিকে পুলিস এসে প্রথমে ওই কর্মীকে হেনস্তা করে। পরে কাউকে না জানিয়ে থানায় নিয়ে যায়। রেলকর্মী সৈকত মুখোপাধ্যায় বলেন, ট্র্যাক ডাইভারশনের কাজ চললে আগে থেকে থানায় জানানো হয়। রেল পুলিস, আমাদের ইনচার্জ সবাই উপস্থিত থাকলেও কাউকে না জানিয়েই বৈদ্যনাথকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের চিন্তা হচ্ছিল ওই কর্মী কোথায় গেল। পরে আমার থানায় গেলে, আমাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়। আমরা জানতে চেয়েছিলাম, কেন ওকে থানায় নিয়ে আসা হল? তার কোনও উত্তর পাইনি। ইস্টার্ন রেলওয়ে মেনস ইউনিয়নের পানাগড় শাখার সেক্রেটারি কৃষ্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ওই কর্মীকে কর্তব্যরত অবস্থায় বুদবুদ থানা তুলে নিয়ে যায়। একজন ট্রাক ড্রাইভার এসে আমাদের বিষয়টি জানায়। আমরা থানায় গিয়ে সুবিচার পাইনি। আমরা রেলের কাজ করব, অথচ রাজ্য পুলিসের হাতে মার খাব! তারই প্রতিবাদে অবরোধ করেছি। বৈদ্যনাথ জানান, তিনি কাজ করছিলেন। সেই সময় পুলিস এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে ক’টা থেকে গেট বন্ধ রয়েছে? তাঁর অভিযোগ, আচমকা মারধর করা হয়। রিভালভার দেখিয়ে এনকাউন্টারের কথাও বলে পুলিস। থানাতেও মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাকে কেন থানায় নিয়ে যাওয়া হল, কেন মারা হল তার জবাব দিক। এদিন সকাল ৯টা থেকে অবরোধ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ চলে। বুদবুদ থানার পুলিস অবরোধের খবর পেয়ে রেলগেটে উপস্থিত হলে রেলকর্মীদের সঙ্গে বচসার পরিস্থিতি তৈরি হয়। রেলকর্মীরা বলেন, কেন এভাবে কর্মীকে তুলে নিয়ে গেল তার জবাব পুলিসকে দিতে হবে। ওখানে রেলকর্মীকে দিয়ে কী লেখানো হয়েছে তা জানতে চাই। দীর্ঘক্ষণ গেট বন্ধ থাকার ফলে দুই দিকেই সার দিয়ে আটকে পড়ে গাড়ি। মানকরের বাসিন্দা গৌরব দাস বলেন, সকালে কাজে বেরিয়েছিলাম। এসে দেখি গেট বন্ধ। কতক্ষণ এভাবে থাকতে হবে বুঝতে পারছি না। গেট বন্ধ থাকার ফলে দূরপাল্লার সরকারি ও বেসরকারি বাস আটকে যায়। বাসযাত্রী সুমন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, জরুরি কাজে কাটোয়া যাব, কিন্তু এখানেই অনেক সময় চলে গেল। পরে বুদবুদ থানার পুলিস পরিস্থিত স্বাভাবিক করে। রেলগেট খুলে দেওয়া হয়। এসিপি (কাঁকসা) সুমনকুমার জয়সওয়াল বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র