নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: রোহিঙ্গা বলে দেগে সেনা জওয়ানকে মারধর। রেল পুলিসের লকআপেও আটকে রাখার অভিযোগ। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ স্টেশনে। অভিযোগ, ছুটিতে আসা সেনা জওয়ান তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিহারগামী ট্রেনে তুলে দিতে রায়গঞ্জ স্টেশনে এলে তাঁকে মারধর করে রেল পুলিস। টাকা চাওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় ওই জওয়ান রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রেল পুলিস কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ মানতে নারাজ। এনিয়ে রায়গঞ্জ শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তৃণমূলের।
আক্রান্ত সেনা জওয়ানের নাম প্রেমানন্দ মাহাত। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনার ক্লার্ক হিসেবে পাঞ্জাবের ফিরোজপুর ক্যাম্পে কর্মরত। দিনকয়েক আগে ছুটিতে নিজের বাড়ি রায়গঞ্জের লক্ষনীয়ায় এসেছেন। এদিন সকালে রাখীবন্ধন উপলক্ষ্যে তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে রাধিকাপুর-কাটিহার লোকাল ট্রেনে তুলতে আসেন। আক্রান্ত জওয়ান প্রেমানন্দের অভিযোগ, এদিন মা ও বোনকে বিহারে মামার বাড়িতে পাঠানোর জন্য রায়গঞ্জ স্টেশনে আসেন তিনি। বিহারগামী ট্রেনে মাকে তুলে দিয়ে বসার জন্য ইশারা করেন প্রেমানন্দ। ট্রেন ছাড়ার সময় হলে রেল পুলিসের এক কর্মী প্রেমানন্দকে সরে যেতে বলেন।
জওয়ান প্রেমানন্দ বলেন, আমাকে রোহিঙ্গা বলে গালিগালাজ করে ওই রেলপুলিস। প্রতিবাদ করলে রেল পুলিস আমার আইকার্ড দেখতে চায়। জওয়ানের পরিচয় দিলেও আমার সঙ্গে তর্কাতর্কি করে। রেলপুলিস আমাকে থাপ্পড়ও মারে। আমি দু-এক কথা বলতে না বলতেই আরও কয়েকজন রেল পুলিস সেখানে এসে হাজির হয়।
জওয়ানের অভিযোগ, আমার কলার ধরে রেল পুলিসের অফিসে মারতে মারতে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি যেতে না চাইলে মারধর করে। বন্দুক দিয়েও আমাকে আঘাত করা হয়। লকআপে আটকে রাখে। যেন আমি কোনও জঙ্গি। আমাকে ছাড়ার জন্য ওরা দু’হাজার টাকাও চায়। টাকা না দেওয়ায় প্রায় ঘণ্টাখানেক আমাকে আটকে রাখে। পরে পরিবারের লোকজন এসে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
জখম সেনাজওয়ান বর্তমানে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সেনা জওয়ানের অভিযোগ নস্যাৎ করে রায়গঞ্জ স্টেশনে মোতায়েন রেল পুলিসের আধিকারিক বাচ্চু ওরাওঁ বলেন, চলন্ত ট্রেনে ওই যুবক উঠতে যাচ্ছিলেন। তাঁকে সেসময় সাবধান করা হয়। তখন আঙুল তুলে কর্তব্যরত রেল পুলিসকে গালিগালাজ করেন। এরপর তাঁকে আটক করে থানায় আনা হয়। তাঁকে মারধর করা হয়নি। ধরে আনার সময় সাময়িক ধাক্কাধাক্কি হয়। আমরা ঘটনার তদন্ত করছি।
সেনা জওয়ানকে মারধরের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার। বলেছেন, যেখানে যেখানে কেন্দ্রের বাহিনী আছে, সেখানেই ওরা কিছু না জেনে বুঝে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। গোটা দেশজুড়েই রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা নেতৃত্বকে ঘটনাটি জানাবো।