নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জঙ্গলমহল এলাকার একাধিক রেল প্রকল্পে জটিলতা নিয়ে সম্প্রতি লোকসভায় সরব হয়েছিলেন বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। সমস্যার কথা জানিয়ে অরূপবাবু রেলমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছিলেন। বাঁকুড়ার সাংসদকে চিঠি লিখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ায় রেলওয়ে সাইডিং নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্যা খতিয়ে দেখতে আধিকারিকরা শীঘ্রই যাবেন বলে সাংসদকে লেখা চিঠিতে মন্ত্রী জানিয়েছেন। বাঁকুড়া শহরের ময়রাবাঁধ এলাকায় রেলের আন্ডারপাস নিয়ে যে জট তৈরি হয়েছে তা কাটাতেও আধিকারিকরা পরিদর্শনে যাবেন বলে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। আধিকারিকদের রিপোর্ট মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে চিঠিতে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন।
অরূপবাবু বলেন, বাঁকুড়া শহরের ময়রাবাঁধ ও সানবাঁধা অঞ্চলের মধ্যে রেলের আন্ডারপাস নির্মাণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ওই জট কাটাতে হবে। নিতুড়িয়ায় রেলের তরফে একটি সাইডিং তৈরি করা নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি তুলেছেন। ওই সাইডিং লোকালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে সরিয়ে পাশের কোনও নির্জন জায়গায় তৈরি করতে সুবিধা হয়। এব্যাপারে রেলমন্ত্রী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। ওই দু’টি সমস্যার পাশাপাশি ছাতনা-মুকুটমণিপুর ও বাঁকুড়া-রানিগঞ্জ রেলপথ চালুর দাবিও আমি জানিয়েছি।
সানবাঁধা অঞ্চলের বাসিন্দা কিঙ্কর ঘোষ, রবি পরামানিক বলেন, আগে ময়রাবাঁধে রেলের লেভেল ক্রসিং ছিল। সেখান দিয়েই আমাদের অঞ্চল ও আশপাশের প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করত। পরে রেলের তরফে আন্ডারপাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু, স্থানীয়দের একাংশের বাধায় মাঝপথে কাজ থমকে রয়েছে। ফলে আমাদের ঘুরপথে বাঁকুড়া শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অবিলম্বে রেল সমস্যা না মেটালে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
উল্লেখ্য, রেলের তরফে জঙ্গলমহলকে বরাবর অবহেলা করা হয়েছে বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। জঙ্গলমহলের পর্যটনের বিকাশে ছাতনা-মুকুটমণিপুর-ঝাড়গ্রাম রেলপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এব্যাপারে উদ্যোগী হন। ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে রেলের তরফে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ার কারণে প্রকল্প থমকে রয়েছে। একইরকমভাবে পূর্ব রেলের সঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব রেলকে জুড়তে বাঁকুড়া থেকে গঙ্গাজলঘাটির দুর্লভপুর পর্যন্ত মাত্র ২২ কিলোমিটার লাইন পাততে হবে। একইরকমভাবে খানা-বোঁয়াইচণ্ডী রেলপ্রকল্পও থমকে রয়েছে। ওইসব রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাঁকুড়ার সঙ্গে দুই বর্ধমান জেলার সঙ্গে জুড়ে যাবে। তারফলে বাঁকুড়া তথা জঙ্গলমহলের আর্থসামাজিক চেহারা পাল্টে যাবে। রেলের এক আধিকারিক বলেন, যে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আমরা সমীক্ষা করে থাকি। ওই প্রকল্প রেলের তরফে লাভজনক হবে কি না, তা দেখা হয়। আগে বেশ কিছু অলাভজনক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিছু প্রকল্প পরবর্তীকালে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বর্তমানে রেলের আর্থিক স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নয়। ফলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিতেই অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে। সাঁতুড়ি ব্লকের তেলকূপির বারনী ঘাটের মেলায় সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। নিজস্ব চিত্র