নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চলন্ত ট্রেন থেকে আবর্জনা, খাবারের উচ্ছিষ্ট ছুড়ে ছুড়ে লাইনে ফেলে দিচ্ছেন সরকারি কর্মচারীই। সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। রেল কর্মীর এহেন কীর্তিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, স্টেশন চত্বর কিংবা ট্রেনের ভিতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের চোখরাঙানির সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ রেল যাত্রীদের। কিন্তু রেল কর্মীরা নিজে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে চলেন কি? নাহলে ট্রেন থেকে আবর্জনা, খাবারের উচ্ছিষ্ট রেল লাইনে ছুড়ে ফেলার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেন রেলেরই একজন কর্মী দ্বিধাহীনভাবে তা করে চলেছেন? এই ইস্যুতে বিতর্ক বাড়তেই অবশ্য অভিযুক্ত আইআরসিটিসি কর্মী কাঞ্চন লালকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে রেলমন্ত্রক।
ঘটনা ঘটেছে সুবেদারগঞ্জ-লোকমান্য তিলক স্পেশাল ট্রেনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। বিতর্ক মাত্রাছাড়া হতেই বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রক সরকারিভাবেই জানিয়ে দিয়েছে যে, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ওই রেল কর্মীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই পাশাপাশি ওই ট্রেনের হাউস-কিপিংয়ের দায়িত্বে থাকা চুক্তিভিত্তিক সংস্থাকেও ২৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা ও এবং ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট ওয়ার্নিং দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, দ্বিধাহীনভাবে ট্রেন থেকে খাবারের প্লেট, উচ্ছিষ্ট এবং অন্যান্য আবর্জনা ছুড়ে ছুড়ে ফেলছেন ওই আইআরসিটিসির কর্মী। মুখে একগাল হাসি। উপস্থিত রেল যাত্রীদের একটি অংশ তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করছেন, তিনি এভাবে লাইনে জঞ্জাল ফেলছেন কেন? কিন্তু তাতেও তাঁর কোনও হেলদোল দেখা যায়নি। বরং পাল্টা বলেছেন, তাহলে এসব রাখব কোথায়? রেলমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, ট্রেনের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট বন্দোবস্ত আছে। সেইমতোই আবর্জনা, জঞ্জাল, খাবারের প্লেট, উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার করা হয়। রেল কর্মীদের তা অজানা নয়।
মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, এবার থেকে রেল লাইনে কর্তব্যরত ‘গ্যাংম্যান’দেরও এই ব্যাপারে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আবর্জনা ছুড়ে লাইনে ফেলা হলেই তাঁরা ওই ট্রেনের বিষয়ে আধিকারিককে জানিয়ে দেবেন। সম্ভব হলে উল্লেখ করবেন কোন কোচ থেকে আবর্জনা ফেলা হয়েছে, তার নম্বরও। ‘গ্যাংম্যান’দের ‘রিপোর্টিং’য়ের ভিত্তিতেই এই ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে রেল।