নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসি লোকাল থামার পর যাত্রীরা স্টেশনে নেমে যাচ্ছেন। তারপর ভিড় শুরু হচ্ছে রিল শিকারিদের। তাতে এমন মেতে সবাই যে, ট্রেনের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এসি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কখন, তা খেয়ালই থাকছে না কারও। ট্রেন এরপর চলে যাবে কারশেডে। তখন কি হবে? কপালে চিন্তার ভাঁজ নিরাপত্তারক্ষীদের। আরপিএফের এক কর্মী বললেন, ‘আর বলবেন না। সেদিন কয়েকজন রিল তুলতে গিয়ে ট্রেনে থেকে গিয়েছেন। এদিকে কামরার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসিও বন্ধ। তখন চিত্কার শুরু করেছিলেন ওঁরা। আমরা তারপর বলে কয়ে আবার দরজা খোলালাম। এ এক নতুন বিড়ম্বনা হয়েছে।’
এখন স্টেশনে গেলেই চোখে পড়বে এসি লোকালের ভিতর হঠাত্ হঠাত্ আলোর ঝলকানি। আসলে তখন সেলফি আর ভিডিও তোলা চলছে মোবাইলে। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে উঠলেই সেলফি তুলতে শুরু করছেন অনেকে। যেগুলি দিয়ে রিলস তৈরি হবে। দেওয়া হবে সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু ট্রেনে ভিড় বলে ভিডিও করতে সমস্যা। তাই শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ানোর পর ফাঁকা কামরায় চলছে ছবি তোলা। সেসব করতে গিয়ে খেয়াল থাকছে না ট্রেন এবার কারশেডে চলে যাবে। ফলে বাড়ছে বিপদ। এ সমস্যা এখন নিত্যদিনের। মঙ্গলবারও রানাঘাট-শিয়ালদহ এসি লোকালে এই চিত্র দেখা গিয়েছে।
কামরার দরজা খোলা আর বন্ধ হওয়ার মুহূর্ত ধরে রাখতে স্মার্টফোন তাক করে প্রস্তুত রিল শিকারিরা। স্টেশনে ট্রেন থামার পর যাত্রীরা নামলেন। কামরা ফাঁকা হল। আর ঝাঁপিয়ে পড়লেন রিল প্রস্তুতকারকরা। তবে এবার সতর্ক আরপিএফ। ঝুঁকি নিতে রাজি নন তাঁরা। ফলে শিয়ালদহ স্টেশনে এসি লোকাল পৌঁছতেই বাঁশি হাতে তত্পর আরপিএফ। কেউ কোথাও রিলস তৈরি করছেন কি না দেখতে প্রায় মিনিট পনের ট্রেনের দরজা খোলা রেখে খোঁজাখুঁজি চালালেন। এই ফাঁকে প্ল্যাটফর্মে থাকা অন্যান্য যাত্রীরা এসি লোকাল কেমন তা দেখার জন্য কামরায় উঠে পড়ছেন। তাঁদেরও হাঁক ডাক করে নামালেন আরপিএফ কর্মীরা। তবে বিপদের এখানেই শেষ নয়। কেউ হয়তো ট্রেনের পিছনের কামরায় উঠে পড়েছেন। তিনি আর প্ল্যাটফর্মে নেমে এগিয়ে আসছেন না। ট্রেনের ভিতর দিয়ে এসির মধ্য দিয়ে যতখানি এগনো যায় ততটাই এগবেন। কয়েকজন বললেনও, ‘অনেক টাকা ভাড়া দিয়েছি। পুরো ঠান্ডা উপভোগ করে তবে নামব ট্রেন থেকে।’