নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: স্নাতকস্তরের পড়ুয়া যুবতীকে গালিগালাজ, মারধর, শ্লীলতাহানি মদ্যপ যুবকদের। রুখতে গিয়ে আক্রান্ত বাবা। শনিবার হোলির সন্ধ্যায় এমনই এক অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ালো রায়গঞ্জ শহরের খরমুজাঘাট রোডে। পুলিসের বক্তব্য, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রায়গঞ্জ থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার জানিয়েছেন, শ্লীলতাহানি, মারধর সংক্রান্ত একটা অভিযোগ রবিবার দায়ের হয়েছে। পুলিস সেটা খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ। অভিযোগ, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের ওই পড়ুয়া তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় মাঝপথে তাঁকে লক্ষ্য করে কটূক্তি ভেসে আসে। বিনা প্ররোচনায় খরমুজাঘাট রোড মিলনপাড়া এলাকায় তাঁকে ব্যাপক গালিগালাজ করতে থাকে কয়েকজন মদ্যপ যুবক। সেই কুকথার প্রতিবাদ জানাতেই শুরু হয় বচসা। ক্রমে ধস্তাধস্তি। এরপরই ভর সন্ধ্যায় রাস্তার মাঝে ফেলে ওই যুবতীকে এলোপাথাড়ি চড়, কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে ওই নেশাগ্রস্তরা। বাঁশ দিয়েও পেটানো হয় মেয়েকে। তাতে ওই যুবতীর হাতে আঘাত লাগে। যুবতী পড়ুয়ার শ্লীলতাহানি করে ওই যুবকরা। লোকমুখে এই কাণ্ড শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তাঁর বাবা। তিনিও প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ, এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়ে যুবতীর প্রৌঢ় বাবাকেও বেধড়ক মারধর করতে থাকে নেশাগ্রস্তরা। যুবতীর বাবার দাবি, একেবারে প্রাণে মেরে ফেলতে প্রথমে আমার মেয়েকে ও পরে আমাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়েছে কয়েকজন নেশাগ্রস্ত যুবক। আমার মাথা ফেটে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে আসেন। মদ্যপরা ওই সময় লোকজনের ভিড় দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালায়। এলাকাবাসী আমাদের উদ্ধার করে। রক্তাক্ত অবস্থায় আমরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাই। চিকিৎসার পর এদিন কিছুটা সুস্থ হয়ে রায়গঞ্জ থানার দ্বারস্থ হয়েছি।
আক্রান্ত দু’জনের আক্ষেপ, মিলনপাড়া এলাকায় এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে, আমরা ভাবতে পারিনি। সকাল থেকে হোলি উপলক্ষ্যে সকলে রঙের উৎসবে মেতে ওঠে। এর জেরে রাস্তাঘাট কার্যত শুনশান হয়ে পড়ে। গাড়িও সেরকম চলছিল না। আমাদের ধারণা ছিল রঙ খেলা শেষ হলে সন্ধের সময় যাতায়াত করা যাবে। কিন্তু তাও সম্ভব হল না।
স্থানীয় সূত্রে খবর, খরমুজাঘাট রোড মিলন পাড়া এলাকায় নেশাগ্রস্তদের উপদ্রব বাড়ছে। তার কারণ ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই কয়েকটি নেশার বসে। স্থানীয় কো-অর্ডিনেটর পুষ্পা মজুমদার বলেন, ঘটনায় পুলিসের কাছে অভিযোগ হয়েছে। পুলিস কড়া পদক্ষেপ নিক এটাই চাই। নতুন প্রজন্মের একাংশ রঙের উৎসবে রঙ খেলায় প্রাধান্য না দিয়ে নেশায় ডুবে থাকে। যার জন্যই এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।