নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: মঙ্গলবার ছাত্র সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠলো রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবিভিপি ও এসএফআইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। তাতে জখম হয় দু’পক্ষের অন্তত ৬ জন। সকলে রায়গঞ্জ মেডিকল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে সরব হয়েছে দুই ছাত্র সংগঠন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে রায়গঞ্জ থানা চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে রাতে অবশ্য দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় রায়গঞ্জ থানা সামনে। থানার সামনেও সিপিএম বিজেপির মধ্যে দফায় মারামারি হয়, বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এলাকায়। নামানো হয় র্যাফ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন বলেন, দু’দলের মধ্যে অশান্তি বেঁধেছিলো। আমরা জেনেছি, তাদের বেশিরভাগ বহিরাগত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করা হয়েছে। পুজো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ পিকেট থাকবে। সেই সঙ্গে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার কুলদীপ সোনাওয়ানে বলেন, রায়গঞ্জ থানার পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাতে নতুন করে কোনো সমস্যা না হয় সেটা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
এদিন ক্যাম্পাসে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ এসএফআইয়ের একদল বহিরাগত সশস্ত্র যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ লোহার গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। এবিভিপির অভিযোগ, এসএফআই সমর্থকরা পড়ুয়াদের উপর চড়াও হয়। লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি হামলা চালায় এসএফআই। সেই অভিযোগ অবশ্য নস্যাৎ করে এসএফআই। সংগঠনের দাবি, তাঁদের একজন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছিলো। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে এসএফআই ছেলেরা মার খেয়েছে। এমনকি সংঘর্ষ শেষে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলে সেখানেও এবিভিপি তাদের উপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বেশ কিছু পোস্টার লাগিয়েছিল এসএফআই। পরে সেসব পোস্টার কেউ ছিঁড়ে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি নেতা তথা ভুগোল বিভাগের ছাত্র জিৎ সরকার বলেন, ক্যাম্পাসে ক্লাস চলাকালীন এসএফআইয়ের সশস্ত্র বহিরাগতরা হামলা চালায়। মারধর করে। ওঁরা নিজেরাই ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগায় ও সেগুলি ছিঁড়ে ফেলে। তারপর আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপায়। অভিযুক্তরা সকলে বহিরাগত।
এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ভেঙে ঢুকে লাল সন্ত্রাস চালালে কেউ পার পাবে না। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা এই কার্যকলাপ করেছে তারা আইনের আওতায় আসবে। এনিয়ে আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছি। উত্তর দিনাজপুর জেলার সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ হবে।
রায়গঞ্জের এসএফআই নেতা বিবেক বর্মন বলেন, আমাদের ছাত্ররা ক্যাম্পাসে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে পোস্টার লাগায়। সেগুলি এবিভিপি ছিঁড়ে ফেলে। প্রতিবাদ করতে গেলে দর্শন বিভাগের এক ছাত্রকে এবিভিপি আটকে রাখে। তাঁর খোঁজে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরাজি বিভাগের কাছে গেলে আমাদের মারধর করা হয়।